আন্তর্জাতিক

নিউইয়র্কে বন্দীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

নিউইয়র্কে বন্দীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে পুলিশি হেফাজতে থাকা ব্যক্তি. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

নিউইয়র্কে পুলিশি হেফাজতে থাকা একজন বন্দীকে মারধর করছে পুলিশ সদস্যরা।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে হাতকড়া পরা অবস্থায় এক বন্দীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। ঘটনার ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে।

নিউইয়র্কের মার্সি কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে কারা কর্মকর্তাদের হাতে ৪৩ বছর বয়সী রবার্ট ব্রুকস নামের এক বন্দীকে পিটিয়ে হত্যার ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। বডি-ওর্ন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, হাতকড়া পরা অবস্থায় ব্রুকসকে ঘুষি, লাথি এবং বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হয়। এই ঘটনায় নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর তদন্ত শুরু করেছে।

ভয়ঙ্কর ভিডিও ফুটেজ

শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, তিনজন কর্মকর্তা মিলে ব্রুকসকে ধরে একটি মেডিক্যাল পরীক্ষার ঘরে নিয়ে যান। সেখানে একজন কর্মকর্তা তার মুখে সাদা কিছু ঢুকিয়ে দেন এবং এরপর তার মুখে ঘুষি মারতে শুরু করেন। অন্য এক কর্মকর্তা তার গ্রোইনে ঘুষি মারেন এবং জুতা দিয়ে আঘাত করেন।

এরপর ব্রুকসকে একটি টেবিলে শুইয়ে আবার আঘাত করা হয়। ভিডিওতে তার মুখ রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা যায়। পরে তাকে মাটিতে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।

কীভাবে মারা গেলেন ব্রুকস?

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কর্মকর্তারা যেভাবে ব্রুকসকে টেবিল থেকে ধরে টেনে তুলেছিলেন, তাতে তার ঘাড়ে মারাত্মক চোট লাগে। এর ফলে তার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের অধ্যাপক জেরেমি ফাউস্ট বলেন, “যেভাবে তার ঘাড় মোচড়ানো হয়েছিল, তাতে তা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।”

পুলিশের শক্তি প্রয়োগের প্রশ্ন

পুলিশি প্রটোকল অনুযায়ী, কেউ হাতকড়া পরা অবস্থায় থাকলে এবং যদি তারা হুমকি না হয়ে থাকে, তাহলে তাদের উপর শক্তি প্রয়োগ করা বেআইনি। ভিডিওতে দেখা যায়, ব্রুকস সম্পূর্ণ নিরস্ত্র ও হুমকিমুক্ত ছিলেন। তারপরও তাকে একের পর এক মারধর করা হয়।

তীব্র নিন্দা ও বরখাস্তের নির্দেশ

নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল ঘটনাটিকে “হৃদয়বিদারক” বলে মন্তব্য করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট ১৪ জন কর্মীকে বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “অধিকাংশ কারা কর্মকর্তা তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন। তবে এ ধরনের সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

নিউ ইয়র্কের কারা বিভাগের প্রধান ড্যানিয়েল মার্টাসেলো বলেন, “এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত লজ্জাজনক। আমরা এ নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাব এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার আনব।”

পরিবারের দাবি: ন্যায়বিচার চাই

ব্রুকসের পরিবার ভিডিওটি দেখার পর এটিকে “অমানবিক এবং হৃদয়বিদারক” বলে উল্লেখ করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “আমরা ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত শান্ত হব না।”

পরবর্তী পদক্ষেপ

ঘটনার পর কারাগারে বডি ক্যামেরা ব্যবহারের নিয়ম জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি কারাগারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সংস্কার আনার কাজ চলছে।

বিষয়:নিউইয়র্ক নিউইয়র্ক পুলিশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…