দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সীমান্ত বিরোধ আবারও রক্তক্ষয়ী রূপ নিয়েছে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে। এখন পর্যন্ত সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন থাই বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। গোলাগুলির মধ্যেই এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকালে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
থাইল্যান্ড অভিযোগ করেছে, কাম্বোডিয়ান বাহিনী একটি থাই গ্রামে রকেট হামলা চালিয়েছে এবং একটি হাসপাতাল লক্ষ্য করে আক্রমণ করেছে। অন্যদিকে, থাই বিমান বাহিনী পাল্টা জবাবে কাম্বোডিয়ার সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে।
এই উত্তেজনার প্রেক্ষিতে থাইল্যান্ড পুরো কম্বোডিয়া সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি দেশটিতে অবস্থানরত সব থাই নাগরিককে ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছে। কম্বোডিয়া এরইমধ্যে থাইল্যান্ডের সঙ্গে নিজেদের কূটনৈতিক সম্পর্ক নিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে এনেছে। দেশটি অভিযোগ করছে, থাইল্যান্ড অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহার করছে।
থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী এবং কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, প্রাসাত তা মুয়েন থম মন্দিরের আশপাশের বিতর্কিত এলাকাতেই সংঘর্ষ শুরু হয়। এই অঞ্চলটি বহুদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে।
থাইল্যান্ডের বুড়িরাম প্রদেশের বান দান জেলার বাসিন্দা সুতিয়ান ফিউচান জানিয়েছেন, থাই-কম্বোডিয়া সীমান্তবর্তী এলাকায় বর্তমান পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে, অনেকেই এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটছেন। নিজের পরিবারের সদস্যদেরও তিনি আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, অবস্থা এখন সত্যিই খুব ভয়াবহ। আমরা এখনই সরিয়ে নিচ্ছি সবাইকে।
সরাসরি গোলাগুলির বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, যেখানে সাধারণ মানুষ থাকে ওই দিকেই গুলি চালানো হচ্ছে। সবাই খুব ভয়ে আছে।”
সুতিয়ানের কাছে জানতে চাওয়া হয় এবারের সংঘর্ষ আগের তুলনায় ভয়াবহ কি না? উত্তরে সুতিয়ান বলেন, হ্যাঁ, এবার পরিস্থিতি আরও খারাপ। শুধু রাইফেল নয়, ভারী গোলাবারুদও ব্যবহার করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা দীর্ঘদিনের হলেও সাম্প্রতিক সংঘর্ষে সাধারণ মানুষও ব্যাপক আতঙ্কের মধ্যে পড়েছে।








