রাজধানীর নিউ মার্কেটের আকাশ-বাতাস ব্যবসায়ীদের আহাজারি আর আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে আগুন লাগা মার্কেটের সামনের রাস্তায় অঝোরে কাঁদতে দেখা যায় এক মাকে।
শনিবার ১৫ এপ্রিল সকালে তিনি বলছিলেন, আমার ছেলে সাব্বির, ভেতরে আটকা পড়ছে। ফোনের কথা হচ্ছে সাব্বিরের সঙ্গে। কিন্তু মার্কেট থেকে বের হতে পারছে না। দোতলায় দোকান সাব্বিরের।
আহাজারি করতে করতে এই মা বারবার বলছিলেন, ‘আমার বাবা, আমার বাবাটা কই, ওরে বের করে দেন। আমার বাবাটা না বাঁচলে আমি তো শেষ। ’
এরপর ফোনে ছেলের সঙ্গে কথাও বলেন তিনি। আতঙ্কিত মা ফোনে বলেন, ‘বাবা সাব্বির দোকান গেলে ফিরে পাবো, তুই গেলে আর পাবো না, তুই নেমে আয় যেভাবেই হোক। ’
মার্কেট এলাকায় এ মায়ের মতো অনেককে আহাজারি করতে দেখা গেছে। স্বজনরা বলছেন, ঈদের সময় গভীর রাত পর্যন্ত বেচাকেনা করেছে। তাই অনেকে রাতের বেলা মার্কেট থেকে বের হয়নি, ভেতরেই রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার ছুটির দিন ও পয়লা বৈশাখ থাকায় ভালো ব্যবসা হয়েছে ব্যবসায়ীদের। প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত খোলা ছিল সব দোকান। শেষরাতের দিকে দোকান বন্ধ করে অধিকাংশ ব্যবসায়ী বাসায় ফিরে গেছেন। আর ভোরবেলা পেয়েছেন আগুনের সংবাদ। রাত করে কেউ আর বাসায় টাকা নিয়ে যাননি। বেশিরভাগ ব্যবসায়ীর ক্যাশে বেশ ভালো টাকা রয়ে গিয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ইমন বলেন, ভেতরে অনেক আগুন, মার্কেটের অধিকাংশ দোকান পুড়ে যাবে। নিচতলায় এবং প্রথম ও দ্বিতীয় তলার সিঁড়ির কাছাকাছি থাকা দোকানগুলোর মালামাল শুধু বের করা সুযোগ পাইছি। বাকি দোকানের মালামাল বের করার সুযোগ হচ্ছে না।
লিটন নামে আরেকজন দোকানদার জানান, ব্যবসায়ীদের উপরে খড়গ নেমেছে। আমরা কী করবো? কোথায় যাবো? কিভাবে ব্যবসা করবো? কিভাবে পেট চলবে আমাদের? আগুনে তো সব শেষ।
এর আগে শনিবার ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। পরে ৫টা ৪৩ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা অক্লান্ত পরিশ্রমের পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। সঙ্গে যুক্ত হয়ে সহায়তা করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর অগ্নি নির্বাপণ সাহায্যকারী দল। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে বিজিবি ও পুলিশ। আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ হওয়া পর্যন্ত কাজ করবে ফায়ার কর্মীরা।










