থাই–কম্বোডিয়া সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আবারও তীব্র রূপ ধারণ করেছে। উভয় দেশ একে অপরকে দোষারোপ করে লড়াই অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে, ফলে হতাহত ও উদ্বাস্তু মানুষের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সোমবার থেকে সংঘর্ষে ৯ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। অপরদিকে থাই সেনাবাহিনী দাবি করেছে, একই সময় তাদের ৪ জন সৈন্য নিহত এবং ৬৮ জন আহত হয়েছে।
রোববার রাতে নতুন করে কামান ও রকেট হামলার মধ্য দিয়ে আবার লড়াই শুরু হয়। এর ফলে জুলাই মাসে পাঁচ দিনের সংঘর্ষের পর যে ভঙ্গুর শান্তি বজায় ছিল তা ভেঙে পড়ে। পূর্বের লড়াইয়ে ৪৮ জন নিহত এবং ৩ লাখেরও বেশি মানুষ সাময়িকভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। তবে গত মাসে থাইল্যান্ড যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন স্থগিত করে, কারণ সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে তাদের একজন সৈন্য পঙ্গু হয়ে পড়ে।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল বলেছেন, কম্বোডিয়া আলোচনায় আগ্রহী নয় এবং থাইল্যান্ড সামরিক অভিযান চালিয়ে যাবে। থাই সেনাবাহিনী অভিযোগ করেছে, কম্বোডিয়া কামান, রকেট ও ড্রোন দিয়ে আক্রমণ করছে।
অন্যদিকে কম্বোডিয়ার প্রভাবশালী সিনেট সভাপতি হুন সেন বলেছেন, কম্বোডিয়া শান্তি চায়, তবে সীমান্তে থাই বাহিনীর আগ্রাসনের কারণে তারা লড়াই করতে বাধ্য হচ্ছে।
থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেটকিও বলেন, কূটনীতির জায়গা এখন নেই। কম্বোডিয়া তাদের কার্যক্রম বন্ধ না করলে আলোচনা সম্ভব নয়।
সংঘর্ষের কারণে সীমান্তের উভয় পাশে বিপুল মানুষ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। থাইল্যান্ড বলছে, তাদের ৪ লাখ মানুষ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কম্বোডিয়া বলছে, ৫৫ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
থাইল্যান্ডের চারটি সীমান্ত প্রদেশে ৫০০টিরও বেশি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সীমান্ত শহরগুলোর শিবিরে মানুষের ভিড় বাড়ছে, এবং তারা কখন বাড়ি ফিরতে পারবেন সেই অনিশ্চয়তায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের মুখে স্বাক্ষরিত আগের যুদ্ধবিরতি ছিল জোরপূর্বক, তাই ভেঙে যাওয়া আশ্চর্যজনক নয়। থাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এবার আর কোনো বাণিজ্যিক চাপ বা শুল্ক হুমকিকে তারা মেনে নেবেন না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের অবস্থানে কোনো নমনীয়তা দেখা যাচ্ছে না। ফলে সীমান্তে সহিংসতা কমার কোনো সম্ভাবনাও আপাতত নেই।








