পশ্চিম এশিয়াকে চারপাশে বাঁধতে চাইছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তার এই প্রচেষ্টায় তিনি পাশে চান ভারতকে। এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দু’দিনের সফরে ইজরায়েল যাচ্ছেন। তবে তার সফর শুরুর আগেই ‘ষড়ভুজ জোটের’ কথা ঘোষণা করে সেই জোটের ‘গুরুত্বপূর্ণ’ সদস্য হিসাবে ভারতকে পাশে চান বলে জানিয়েছেন নেতানিয়াহু।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দু’দিনের সফরে ইসরায়েল যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
নেতানিয়াহুর ঘোষিত এই ষড়ভুজ জোটে ভারত ছাড়াও থাকবে গ্রিস এবং সাইপ্রাস। এ ছাড়া আরব, আফ্রিকা এবং এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশকে এই জোটের অংশ করতে ইচ্ছুক নেতানিয়াহু। তবে জোটের ‘গুরুত্বপূর্ণ’ সদস্য হিসাবে ভারতকেই চান তিনি। তার মতে, মোদির সফর পশ্চিম এশিয়ার চরমপন্থী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার অংশ হবে।
অনেকের মতে সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক যে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ কথা ভাবছে, তার পাল্টা জোট চান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। যদিও ভারতের পক্ষ থেকে এই জোট নিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
নতুন জোটের লক্ষ্য হল এমন এক অক্ষ তৈরি করা, যা চরমপন্থী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে একমত হবে। বস্তুত, ভারত বার বারই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কথা বলে। মোদি বিভিন্ন দেশের সফরে গিয়ে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বার্তা দেন। সেই লড়াইয়ে বিভিন্ন দেশকে পাশে চান। সেই আবহে ‘ষড়ভুজ’ বানিয়ে বিশ্বের চরমপন্থী সংগঠনগুলোকে বার্তা দিতে তৈরি নেতানিয়াহু। তার মতে, এই জোটের সদস্য দেশগুলো নিজেদের মতামত ভাগ করে নেবে। সহযোগিতার মাধ্যমে ভাল ফলাফল মিলবে বলেও আশাবাদী তিনি। মূলত প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের লক্ষ্যে একজোট হওয়ার ভাবনা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর।
মোদির এই সফর দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করবে, তা একবাক্যে জানাচ্ছে নয়াদিল্লি এবং তেল আবিব। এই সফরে কৌশলগত সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা, কৃষি ও সন্ত্রাস মোকাবিলায় সমন্বয় জোরদার করতে একাধিক দ্বিপাক্ষিক মত স্বাক্ষর হতে পারে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, মোদির সফর তার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হওয়ার লক্ষ্যে এগোবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত-ইসরায়েলের ‘বিশেষ সম্পর্কের’ উল্লেখ করেন নেতানিয়াহু।
নরেন্দ্র মোদিও এই সফর নিয়ে ‘উচ্ছ্বসিত’। ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয় দফায় দায়িত্ব গ্রহণের পরে এটিই তার প্রথম ইসরায়েল সফর। এই সফরে গাজ়া শান্তি পরিকল্পনা, ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে চলমান যুদ্ধ মোকাবিলার লক্ষ্যে বহুপাক্ষিক চুক্তির মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে দুই রাষ্ট্রনেতার। অনেকের মতে, ইসরায়েলের উচ্চাকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করার চেয়ে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং বাণিজ্যের দিকে বেশি ঝুঁকবে ভারত।
মোদির ইসরায়েল সফরকে কটাক্ষ করেছে ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেস। তাদের দাবি, গোটা বিশ্ব যখন ইসরায়েল ও তাদের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সমালোচনা করছে, তখন মোদি ‘নৈতিক কাপুরুষতার’ পরিচয় দিচ্ছেন।








