নেপাল-ভারত সীমান্তে কালী নদীর তীরে বাঁধ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। আর সেই বাঁধ তৈরির উদ্যোগ কারণে ভারতীয় শ্রমিকদের উপর ক্রমাগত পাথর বৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় একজন জখমও হয়েছিলেন।
ভারতের উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড় জেলা প্রশাসন এই ঘটনার বিষয়টি নেপালের কাছে জানিয়েছেন। হিন্দুস্তান টাইমস এ তথ্য জানিয়েছে।
নেপালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামীদিনে যাতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় সেকারণে নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হবে ওই এলাকায়।
উত্তরাখণ্ডের সেচ দফতরের এসডিও ফারহান আহমেদ জানিয়েছেন, শুক্রবারের ঘটনায় এক গাড়ি চালক জখম হয়েছেন। তিনি ওই নির্মাণস্থলে গাড়ি নিয়ে এসেছিলেন। তিনি পাথরের আঘাতে জখম হয়েছেন।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, দুটি ডাম্পারের উইন্ডস্ক্রিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপালিদের ছোঁড়া পাথরের আঘাতে এগুলি ভেঙে গিয়েছে।
পিথোরাগড়ের জেলা শাসক রীনা যোশী জানিয়েছেন, পাথর ছোঁড়ার ঘটনার পরে আমরা গোটা বিষয়টি নেপালকে জানিয়েছি। নেপালের পক্ষ থেকে আমাদের নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এই ধরনের ঘটনা যাতে আগামীদিনে না হয় সেকারণে নেপালের দিকে নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হবে।
এদিকে সেচ দফতরের তরফে দাবি করা হয়েছে, আগামীদিনে যদি এ ধরনের ঘটনা হয় তবে এভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
স্থানীয় এক বিজেপি নেতা মহেন্দ্র বুড়িয়া জানিয়েছেন, নেপালিরা যদি পাথর ছোঁড়া না থামায় তবে আগামী ২৭ ডিসেম্বর থেকে কালী নদীর উপর ব্রিজ বন্ধ করে দেওয়া হবে। পিথোরাগড় পুলিশ ইতিমধ্যেই নির্মাণকর্মীদের উপর পাথর ছোঁড়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে।
কিন্তু কেন এভাবে পাথর ছুঁড়ছেন নেপালের বাসিন্দারা? আসলে ভারতের দিকে কালী নদীর তীরে বাঁধ তৈরি হচ্ছে। এনিয়ে নেপালের স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে। তাদের অনেকে ভাবছেন যে এভাবে বাঁধ তৈরি হলে নেপালের দিকের অংশ কালী নদীর জলের তোড়়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তার জেরেই তারা বাঁধ তৈরি আটকাতে এভাবে পাথর ছোঁড়া শুরু করেছে বলে খবর।
গত ৪ ডিসেম্বর পিথোরাগড়ে একই ধরনের ঘটনা হয়েছিল। এরপর পুলিশ অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজন নেপালি নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিল।







