গোলের খেলা ফুটবলে বয়সভিত্তিক দলের পাশাপাশি নিয়মিত সাফল্য পাচ্ছে মেয়েদের জাতীয় দলও। জয়ের প্রধান শর্ত গোল আর সোনার হরিণ নয়, লাল-সবুজরা হরহামেশাই পাচ্ছেন গোল। সাবিনা, স্বপ্না, কৃষ্ণা, ঋতুপর্ণা, তহুরা, মনিকা, মাসুরাদের প্রতিপক্ষ জালে গোল উৎসবে মেতে ওঠার পিঠে নিজেদের জাল অক্ষত রাখাকেও ধারাবাহিক ঘটনা বানিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ।
কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে সোমবার স্বাগতিক নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবার মেয়েদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছে বাংলাদেশ। আসরে প্রতিপক্ষ জালে ২৩ গোল দেয়ার পিঠে ফাইনালে এসেই কেবল একটি গোল হজম করেছে গোলাম রব্বানি ছোটনের শিষ্যরা।
অপরাজিত চ্যাম্পিয়নদের আক্রমণ ও মধ্যমাঠের পাশাপাশি রক্ষণটাও বেশ শক্তিশালী। ৫ ম্যাচে বাংলাদেশ ২৩টি গোল করেছে। বিপরীতে হজম মাত্র একটি। পোস্টে বাংলাদেশের দেয়ালই হয়ে উঠেছেন গোলরক্ষক রূপনা চাকমা।
গত জুনে ঘরের মাঠে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে দুটি ফিফা প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল ছোটনের মেয়েরা। প্রথম ম্যাচে সফরকারীদের ৬-০ গোলে উড়িয়ে দেয়। দ্বিতীয় ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হলেও ১-০তে সিরিজ জিতে নেয় সাবিনা খাতুনের দল। দুই ম্যাচে একটি গোলও হজম করেননি লাল-সবুজদের গোলরক্ষক রূপনা চাকমা।
আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে বেশ প্রশংসিত বাংলাদেশের রক্ষণও এখন চীনের প্রাচীর। প্রতিপক্ষ যতবার আক্রমণে উঠেছে রূপনাকে দেখা গেছে সদা তৎপর। কখনো ঝাঁপিয়ে পড়ে, কখনো বা সামনে দৌড়ে এসে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন বল। ঘটতে দেননি বিপদ। ফাইনালের আগে অবশ্য বাংলাদেশ গোলরক্ষককে তেমন কোনো পরীক্ষাও দিতে হয়নি। ফাইনালে সে পরীক্ষায় সেরা সাফল্যই পেয়েছেন তিনি।
গোলরক্ষক রূপনার সামনে রক্ষণে দুর্ভেদ্য হয়ে দাঁড়িয়ে থেকেছেন চার ডিফেন্ডার আঁখি খাতুন, মাসুরা পারভীন, শিউলি আজিম ও শামসুন্নাহার সিনিয়র। ডি-বক্সে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়রা বল নিয়ে ঢোকার আগেই তারা হামলে পড়েছেন বিপদমুক্ত করতে।
গোল করার পাশাপাশি নিজেদের জাল অক্ষত রাখায় মিডফিল্ডাররাও রেখেছেন অবদান। মারিয়া মান্ডা, সানজিদা আক্তার ও মনিকা চাকমা সেরাটা দিয়ে ধরে রেখেছিলেন মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রণ। আক্রমণ গড়ে তুলে স্ট্রাইকারদের বল যোগান দেয়ার পাশাপাশি তারা নিজেদের সীমানায় বল নিয়ে ঢোকার আগেই প্রতিপক্ষকে রুখে দেয়ার কাজটা দারুণভাবে সামলেছেন।
আক্রমণ নিয়ে যতই প্রশংসা করা হোক, দিন শেষে হয়তো যথেষ্ট বলে পরিগণিত হবে না। এক সাবিনা খাতুনকে আটকে রাখাই হয়ে উঠেছিল অসম্ভব। ৪ ম্যাচে দুই হ্যাটট্রিকসহ ৮ গোল করে ফাইনালের আগেই সেরার দৌড়ে থাকেন তিনি। হয়েছেন আসরের সর্বাধিক গোলদাতা। আরেক স্ট্রাইকার সিরাত জাহান স্বপ্না করেছেন ৪ গোল। স্বপ্নার বদলি খেলোয়াড় হিসেবে দুবার নেমে দুই গোল পেয়েছেন ঋতুপর্ণা চাকমা। চার গোল করা কৃষ্ণারাণী সরকার পুরো মাঠজুড়ে দুর্দান্ত খেলেছেন। শামসুন্নাহার জুনিয়রও সাফল্য এনেছেন।
টুর্নামেন্টজুড়ে নিজেদের জাল অক্ষত রাখার এক অনন্য নজির গড়তে পারত বাংলাদেশ, ফাইনালে ওই একটি গোল হজম না করলে। সবশেষে যে গোলটি হতে পারেনি কোনো বিপদের কারণও। ৫ ম্যাচে ২৩ গোল করা লাল-সবুজরাই তাই অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন।








