এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রার মাধ্যমে জুলাই গণহত্যার বিচার, সংস্কার এবং নতুন সংবিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে জনগণের দুয়ারে জানান দিয়ে যাচ্ছি। প্রায় এক বছর হতে চলল, কিন্তু অন্তবর্তীকালীন সরকার এখনও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
রোববার (২৭ জুলাই) বিকালে শেরপুর শহরের রঘুনাথ বাজার থানামোড়ে এনসিপি শেরপুর জেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে বক্তব্য দানকালে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা এখন শুনতে পাচ্ছি, কয়েকদিনের মধ্যে জুলাই সনদ ঘোষণা করা হবে। কিন্ত যদি মৌলিক সংস্কার না হয়, যদি রাষ্ট্রেয় গুনগত পরিবর্তন না হয়, তাহলে এনসিপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে না।’
তিনি আরও বলেন, যে কারণে স্বৈরাচারি রাষ্ট্রব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, এক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত থাকছে, সেটা বিলোপের জন্য আমরা উচ্চকক্ষের কথা বলেছি। যেখানে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এনসিপি’র আহ্বায়ক বলেন, কেবল জুলাই সনদ নয়, সংবিধানে ‘জুলাই ঘোষনাপত্র’ সংযুক্ত করতে হবে। আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই সনদ ও জুলাই ঘোষণাপত্র দিতে হবে। অন্যথায় আমরা আগামী ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতাকে নিয়ে ঢাকায় সমাবেশ করে সেটা আদায় করা হবে।
এনসিপি’র জেলার প্রধান সমন্বয়কারী প্রকৌশলী মো. লিখন মিয়ার সঞ্চালনায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রিয় সদস্য সচিব ডা. জাহেদুর রহমান প্রমুখসহ এনসিপি শেরপুর জেলার নেতৃবৃন্দ।
এসময় এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা, নাহিদা সারওয়ার নিভা, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীর উদ্দীন পাটোওয়ারীসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে সীমান্তে নিরীহ নারগরিকদের ভারতের হত্যা ও পুশইনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, আমরা শেখ হাসিনাসহ ভারতে অবস্থান নেওয়া স্বৈরাচারের দোসরদের ফেরত চাই। তাদেকে পুশইন করুন, তাদেরকে সাদরে গ্রহণ করা হবে, বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
তিনি শেরপুর জেলার সীমান্তে হাতি হত্যা, হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে মানুষের মৃত্যু, হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা, সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা না পাওয়া, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অভাবের বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরেন।
নাহিদ বলেন, গত ৩০ বছর ধরে এখানে আ’লীগের এমপি ক্ষমতায় ছিলেন, স্বৈরাচারি ব্যবস্থার কারণে আ’লীগের নেতাদের উন্নতি হয়েছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। সেই পবির্তনের লক্ষ্যেই জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তরুণদেও নিয়ে এনসিপি গঠিত হয়েছে। আপনারা এনসিপির পাশে থাকুন, এনসিপিকে ভালবাসুন।
এর আগে, দুপুরে এনসিপির কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দ নেত্রকোনা জেলা থেকে সড়ক পথে শেরপুর জেলা সদরে আসেন। প্রথমেই তারা জুলাই অভ্যুত্থানে শেরপুর জেলার শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের সাথে দেখা করেন এবং সহমর্মিতা জানান। পরে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে শহরের তিনানী বাজার কলেজ মোড়ের শহীদ মাহবুব চত্বর থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে রঘুনাথ বাজার থানামোড়ের সমাবেশস্থলে এসে শেষ হয়। সন্ধ্যায় নেতৃবৃন্দ জামালপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।








