পূর্বঘোষিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে মৌলভীবাজার থেকে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে তারা সিলেটের উদ্দেশে যাত্রা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মৌলভীবাজার জেলা এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়া।
তিনি জানান, বুধবার রাতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে অবস্থান করেন। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার সিলেটের নির্ধারিত কর্মসূচিতে যোগ দিতে তারা রওনা হন।
এর আগে বুধবার রাতে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে মৌলভীবাজারে ফিরে যান এনসিপির নেতারা।
হবিগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের রুবেলের করা অভিযোগে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহমেদকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ১১ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলার সময় একটি ল্যাপটপসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নিয়ে যাওয়া হয়। পাশাপাশি নগদ ৫ লাখ টাকা এবং প্রায় ৫০ লাখ টাকা মূল্যের যানবাহন ভাঙচুরের অভিযোগও করা হয়েছে।
জানা গেছে, বুধবার বিকেল ৩টার দিকে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে ১৪৪ ধারা জারির মধ্যেই হবিগঞ্জের উদ্দেশে গাড়িবহর নিয়ে রওনা হন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শ্রীমঙ্গল-শায়েস্তাগঞ্জ সড়কের চা-কন্যা ভাস্কর্য এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের অগ্রযাত্রা আটকে দেয়।
এ সময় সড়কে খালি ট্রাক রেখে পথরোধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এনসিপির নেতা-কর্মীরা। পরে পুলিশ ও এনসিপি কর্মীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা এবং একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে।
পরে গাড়িবহর এগিয়ে গেলেও বাহুবলের রশিদপুর গ্যাস ফিল্ড এলাকায় আবারও পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। এরপর কামাইছড়া এলাকায় নতুন করে ব্যারিকেডের কারণে গাড়িবহর আটকে যায়।
এ অবস্থায় নাহিদ ইসলামসহ দলের নেতা-কর্মীরা সড়কে অবস্থান নেন। পরে পুলিশের সঙ্গে আলোচনার পর কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ জমা দেওয়ার অনুমতি পান তারা।
রাত ৮টার দিকে নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ জমা দেয়। প্রতিনিধি দলে ছিলেন মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু এবং সারোয়ার আলম।
তবে এনসিপির আনা এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।







