‘হত্যাপুরী’ নির্মাতা সন্দীপ রায়ের হাত ধরে আসছে নতুন ফেলুদা ছবি। ছবির নাম ‘নয়ন রহস্য’। ছবির সবচেয়ে রহস্যময় চরিত্র জাদুকর ‘সুনীল তরফদার’ হিসেবে যাবে দেবনাথ চ্যাটার্জি যাবে। এত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে কাজ পেতে অবশ্য দেবনাথকে নিজের ম্যাজিক দেখাতে হয়েছে।
সাহিত্যের বর্ণনায় সুনীল তরফদার একজন উঠতি ম্যাজিশিয়ান। একটু নামডাক হচ্ছে। কয়েকটি পত্রিকায় প্রশংসাও ছাপা হয়েছে। বয়স তিরিশ-বত্রিশ এর বেশি নয়। লম্বা গড়ন। গায়ের রং বেশ ফর্সা। চোখ দুটো খুব উজ্জ্বল। ঠোঁটের ওপর সরু গোঁফ। একটা স্মিত হাসি ঠোঁটে লেগে থাকে।
সাহিত্য থেকে যখন চলচ্চিত্রে চরিত্রটি দেখানো হয়, তখন সন্দীপ রায় চরিত্র নির্বাচনের বিষয়ে অসম্ভব নিখুঁত থাকেন। সুনীল তরফদার চরিত্রেও ‘পারফেক্ট’ একজনকে খুঁজছিলেন নির্মাতা। অডিশন নিয়েছেন অনেকেরই। কিন্তু কোথাও কিছু একটা মিলছিল না। সেই সময় ললিতা রায় দেবনাথ চ্যাটার্জির কথা বলেন।
সন্দীপ রায় দেবনাথকে ডেকে নেন। ফটোসেশন করিয়ে দেখলেন, ঠিক যা খুঁজছিলেন একদম হুবহু মিলে যাচ্ছে সাহিত্যের বর্ণনার সঙ্গে। দেবনাথ এর আগে সন্দীপ রায়ের ‘হত্যাপুরী’ ছবিতে একটি ছোট চরিত্রে অভিনয় করেছেন, পুঁথি সংগ্রাহক ডি জি সেনের সেক্রেটারি নিতিন বসুর চরিত্রে। বেশ সাবলীল অভিনয়। পরিচালক সন্দীপ রায়ও তার পারফরম্যান্স এ খুশি ছিলেন। কিন্তু সমস্যা ম্যাজিক নিয়ে। নির্মাতা জানতে পারলেন দেবনাথ ম্যাজিক সম্পর্কেও ভীষণ আগ্রহী। কিছু নিজের ইচ্ছে থেকেই শিখেছেন। জুনিয়র পি সি সরকারের সঙ্গে একাধিকবার তার সাক্ষাত ও আলোচনাও হয়েছে ম্যাজিক নিয়ে।
ম্যাজিকে আবিষ্ট দেবনাথকে আরও ঘষেমেজে, স্টেজ পারফর্মার করে তোলার জন্য সন্দীপ রায় ওয়ার্কশপের ব্যবস্থা করলেন। ম্যাজিশিয়ান সুস্মিত বসু এবং তার স্ত্রী বিখ্যাত জাদুকর শীল এর কন্যা রশ্মি শীল বসু সন্দীপ রায়ের নির্দেশে দেবনাথকে নিয়ে প্রায় দশ দিনের একটা ওয়ার্কশপ করেন। যেখানে স্টেজে ম্যাজিক শোয়ের খুঁটিনাটি, পারফরম্যান্স, কথা বলার ধরন, স্টেজ কভারেজ থেকে ম্যাজিক শেখান। শুটিংয়ে দেবনাথের শো দেখে মুগ্ধ পরিচালক বলেন, ‘দেবনাথ দারুণ করেছেন। আমি এতটা ভালো আশা করিনি। ম্যাজিক না ভালোবাসলে এমন পারফর্ম করা যায় না। এখানে ফাঁকিবাজি চলে না। এইটুকু খুঁত থাকলে ক্যামেরায় সেটা লার্জ হয়ে যাবে। ওর ম্যাজিক শো, পারফরম্যান্স নিখুঁত ছিল।’
অভিভূত ফেলুদা, জটায়ুও। জটায়ু অভিজিৎ গুহ বললেন, ‘ম্যাজিক দেখালেন বটে দেবনাথ। একদম যেন পেশাদার ম্যাজিশিয়ানের শো দেখছি।’ ইন্দ্রনীল বলেন, অ্যাকটিং না করলে তিনি হয়ত জাদুর খেলাই দেখাতেন।’
থিয়েটারের দাপুটে অভিনেতা দেবনাথ এর আগে সৃজিতের সঙ্গে ‘গুমনামি’ ছবিতে অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন। এছাড়াও গেম অফ ডেথ, লাল বাজারের মত জনপ্রিয় ওয়েবে কাজ করছেন, পাশাপাশি টেলিভিশনের সিরিয়ালও জনপ্রিয় মুখ তিনি। গত ১০ বছরের বেশি সময় ধরে শহরের বিখ্যাত বিভিন্ন প্রযোজনার সঙ্গে ঘটক বিদায়,দুই কাপুরুষের কথা, ঘাসিরাম কোতোয়াল,টিকটিকি, মেফিস্টো, স্পার্টাকাস ইত্যাদি নাটকে অভিনয় করে আলোচিত হয়েছেন।
ফেলুদা সিনেমার অন্যতম আকর্ষণ আশ্চর্য ক্ষমতার অধিকারী বালক নয়ন। যার মধ্যে হঠাৎ জন্ম নেয় এক অদ্ভুত ক্ষমতার। মুখ দেখে মানুষটার সম্পর্কিত যে কোনো নম্বর বলে দিতে পারে নয়ন। সেই আশ্চর্য ক্ষমতার অধিকারী নয়নকে নিয়েই যত রহস্যের জট। এই চরিত্রের জন্য সন্দীপ রায় নির্বাচন করেছেন কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের ক্লাস সিক্সের ছাত্র অভিনব বড়ুয়া। সাহিত্যে নয়নের বর্ণনায় সত্যজিৎ রায় ওর উজ্জ্বল এবং বুদ্ধিদীপ্ত চোখের কথা লিখে গিয়েছেন। সন্দীপ রায় সেটা ভেবেই নির্বাচন করেছেন অভিনবকে। এই চরিত্রে ‘পারফেক্ট’ নয়ন, এটাই ইউনিটের বাকি শিল্পীদের মত।
দেবনাথ এবং নয়নের জুটি ইতোমধ্যেই হইচই ফেলে দিয়েছে, জানালেন ললিতা রায়। দেবনাথের ম্যাজিক এবং নয়নের পারফর্মেন্স ছবি মুক্তির আগেই আলোচনায়।
সূত্র: খবর ৩৬৫ দিন







