রেফারি যখন শেষ বাঁশি বাজালেন, তখন একবিংশ শতাব্দীতে প্রথমবার সিরি আ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দে উন্মাতাল নাপোলি। শিরোপা জয়ের জন্য উদিনেসের বিপক্ষে ড্র করাই যথেষ্ট ছিল। ১-১ গোলে ম্যাচ ড্রয়ে শেষ হলে নাপোলি ৩৩ বছর পর পেয়ে যায় কাঙ্ক্ষিত ট্রফির স্বাদ।
নাপোলি লিগে পাঁচ ম্যাচ হাতে রেখেই শিরোপা নিশ্চিত করেছে। কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা ইতালিয়ান ক্লাবটিতে খেলার সময় ১৯৮৭ ও ১৯৯০ সালে শিরোপা জিতেছিল। ২০২০ সালের নভেম্বরে ম্যারাডোনার মৃত্যুর পর তার নামেই ক্লাবটির স্টেডিয়ামের নামকরণ করা হয়।
পঞ্চম দল হিসেবে পাঁচ ম্যাচ হাতে রেখে সিরি আ জিতল নাপোলি। ১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে তুরিনো, ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে ফিওরেন্টিনা, ২০০৬-০৭ মৌসুমে ইন্টার মিলান ও ২০১৮-১৯ মৌসুমে জুভেন্টাস এ কীর্তি গড়েছিল।
৩৩ ম্যাচে লাপোলির পয়েন্ট ৮০। সমান ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট পিছিয়ে আছে দুইয়ের লাৎসিও।
বৃহস্পতিবার রাতে উদিনেসের মাঠে ম্যাচের ১৩ মিনিটে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে নাপোলি। ডানপায়ের শটে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন সানসি লোভরিচ।
বিরতির পর ৫২ মিনিটে কর্নার কিক থেকে উড়ে আসা বলে ডান পায়ের কিকে নিশানাভেদ করেন ভিক্টর ওসিমহেন। সিরি আ’র চলতি মৌসুমে এপর্যন্ত সর্বাধিক গোলদাতা বল জালে জড়াতেই আগাম ট্রফি জয়ের উৎসব শুরু করে স্টেডিয়ামের ভেতর-বাইরে থাকা নাপোলির সমর্থকরা। খেলা শেষে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয় নেপলস। রাস্তায় নেমে উচ্ছ্বসিত সমর্থকরা আতশবাজি ফোটাতে থাকে।
স্টেডিয়ামের ভেতর ১১ হাজার ও বাইরে আরও ৫ হাজার নাপোলি সমর্থক হাজির ছিল। ৫০ হাজারেরও বেশি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন নাপোলির হোম গ্রাউন্ড নেপলসের স্টাডিও ডিয়েগো আরমান্ডো ম্যারাডোনায় জায়ান্টস্ক্রিনে ম্যাচটি দেখানো হয়।
নাপোলির কোচ লুসিয়ানো স্পালেত্তি ম্যাচ শেষে আবেগাক্রান্ত হয়ে বলেন, এই সাফল্যের মাঝে ম্যারাডোনার প্রভাব অনুভূত হয়েছে।
৩৩ বছর পর ইতালিয়ান লিগ জয়ের তাৎপর্য বোঝাতে গিয়ে স্পালেনি যোগ করেন, ‘নাপোলিবাসী এই শিরোপা আপনাদের জন্য। এখানে এমনকিছু মানুষ আছেন, যারা তাদের জীবনের কঠিন মুহূর্তগুলো অতিক্রম করতে সক্ষম হবেন, কারণ তারা এই মুহূর্তটিকে মনে রাখবেন। কঠিন সংগ্রাম করে যাওয়া মানুষরা সকল আনন্দে মেতে ওঠার যোগ্যতা রাখেন।’








