ফারজানা নামে মোহনার এক সহপাঠী সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মোহনাকে সঙ্গে নিয়ে স্কুলে যেতে তাদের বাড়িতে যায়। ঘরের দরোজা খোলা দেখে সে ঘরে ঢুকে মোহনা ও তার মা-বোনকে আলাদা খাটে শুয়ে থাকতে দেখে। প্রথমে ডাকাডাকি করে পরে ফারজানাকে ঘুম থেকে জাগাতে হাত ধরে টানাটানি করলেও এর আগে কোনো এক সময় শ্বাসরোধে হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ায় সাড়া মিলেনি। তখন সহপাঠী ফারজানা মোহনার মা-বোনকেও ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে ভয় পেয়ে যায়। সে ঘর থেকে বের হয়ে প্রতিবেশীদের জানালে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে এমন পরিস্থিতি দেখে তারা পুলিশে খবর দেয়।
এমন ঘটনা ঘটে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের বাসুরচর গ্রাম।

নিহতরা হলেন, বাসুরচর গ্রামের সৌদি প্রবাসী মঞ্জিল মিয়ার স্ত্রী তাসলিমা আক্তার (৩৫) এবং তাঁর দুই মেয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মোহনা আক্তার (১১) ও প্রথম শ্রেণির ছাত্রী বন্যা আক্তার (৭)। নিজ ঘরের দুটি খাটে তাদের মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একই এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে ছোটন মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, ২০১৭ সালের দিকে মঞ্জিল মিয়া সংসারের অনটন ঘুচাতে কাজের সন্ধানে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছেন। তাদের পরিবারের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধের দৃশ্যমান কোনো ঘটনা নেই। এমন নিষ্ঠুর -নৃশংস ঘটনায় এলাকাবাসী হতবাক ও স্তম্ভিত।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, নিহতের স্বামী মঞ্জিল মিয়া সৌদি প্রবাসী বলে জানতে পেরেছি। সিআইডি, পিবিআই ও গোয়েন্দা পুলিশ এ বিষয়ে কাজ করছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহের কাজ চলছে।

এসপি আরও বলেন, ২০১৭ সাল থেকে মঞ্জিল মিয়া সৌদি আরবে। আমরা প্রতিবেশীদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, এর মধ্যে তিনি দেশে আসেননি। নিহতের স্ত্রী তাসলিমা একাই বাড়িতে বাচ্চাদের নিয়ে বসবাস করতেন। তাই সবদিক বিবেচনা করে কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে তা জানার চেষ্টা করা হবে।
ঘরের ভেতরে আসবাবপত্র এলোমেলো বা জবরদস্তি করার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি জানিয়ে তিনি বলেন, দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল না, খোলা ছিল। নিহতের বড় মেয়ে মোহনার বান্ধবী তাকে খুঁজতে এসে দরজা ধাক্কা দিলে ঘটনাটি সামনে আসে। তবে তাদের মৃত্যুর বিষয়টি আমাদের কাছে স্বাভাবিক মনে হয়নি। আবার এটি হত্যাকাণ্ড না সুইসাইড এটি বলার মতো আলামত এখনো পাওয়া যায়নি।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়নি।







