চট্টগ্রামে কর্মরত র্যাব-৭ কার্যালয়ের নিজ অফিস কক্ষে মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার হওয়া পুলিশ কর্মকর্তা এএসপি পলাশ সাহার মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য ও পারিবারিক অভিযোগ উঠেছে। পলাশের মৃত্যুতে শোকাহত মা রমা রানী সাহা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমারে একা রেখে চলে গেলি বাবা, মোরে তোর লগে লইয়া যা, তোরে ছাড়া আমি থাকুম কেমনে?
বৃহস্পতিবার (৮ মে) গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার তারাশি গ্রামের পারকোনা মহাশ্মশানে পলাশের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়। কিন্তু এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় পলাশের স্ত্রী সুস্মিতা উপস্থিত ছিলেন না, যা এলাকাবাসী ও পরিবারের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, মৃত্যুর জন্য পলাশের স্ত্রী সুস্মিতা দায়ী হতে পারেন। পলাশের মা রমা রানী সাহা বলেন, ছেলে তো মরলো, কিন্তু ওর স্ত্রী অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় পর্যন্ত আসলো না, তাহলে সন্দেহ না করে পারি কেমনে? পলাশের স্ত্রী প্রায়ই পারিবারিক কলহে জড়িত থাকতেন এবং কয়েকদিন আগেই পলাশের মাকে ও বড় ভাইকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
পলাশের বড় ভাই নন্দলাল সাহা জানান, প্রায় ২ বছর আগে ফরিদপুরের শিক্ষিত তরুণী সুস্মিতার সঙ্গে পলাশের বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই দাম্পত্য জীবনে অশান্তি শুরু হয়। সুস্মিতা পলাশের মায়ের উপস্থিতি মেনে নিতে পারতেন না এবং পলাশের উপর মানসিক চাপ প্রয়োগ করতেন মাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য।
ঘটনার দিন বুধবার বিকালে র্যাব-৭ এর চট্টগ্রাম কার্যালয়ে নিজের অফিস কক্ষে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পলাশের মরদেহ পাওয়া যায়। বিষয়টি আত্মহত্যা না হত্যা—তা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। তবে পরিবারের দাবি, এটি নিছক আত্মহত্যা নয়, বরং এর পেছনে পারিবারিক নির্যাতন এবং দাম্পত্য কলহ থাকতে পারে।
পলাশের মা রমা রানী সাহা সুস্মিতার বিরুদ্ধে নির্যাতন এবং পরোক্ষভাবে হত্যার অভিযোগ এনে বলেন, আমার ছেলেরে খুন করছে। আমি এর বিচার চাই। আমি সুস্মিতার বিরুদ্ধে মামলা করবো।
এদিকে, স্থানীয়দের মতে, পলাশ ছিলেন একজন সজ্জন ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। তার অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বন্ধুবান্ধব, প্রতিবেশী ও সহকর্মীদের মাঝে এখনও চলছে শোক ও ক্ষোভ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং পলাশের মৃত্যুর কারণ নিরূপণে বিস্তারিত অনুসন্ধান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।







