রাজধানীতে টানা ৬ ঘণ্টার বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের অফিস।
শুক্রবার (১২ জুলাই) মোস্তাফা জব্বার তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডির এক পোস্টে এ তথ্য জানান।
ওই পোস্টে তিনি লিখেন, ‘একটু বৃষ্টি হলেই আমার আরামবাগ অফিসে পানি ওঠে। কিন্তু আজ সেগুনবাগিচা অফিসও পানিতে ডুবে গেল।’
তার দেওয়া ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে একজন প্রশ্ন করে লিখেন, এটার কারণ কী হতে পারে? অপরিকল্পিত নগরী নির্মাণ, নাকি উন্নয়ন ব্যতিত নগরী? জবাবে মোস্তফা জব্বার লিখেছেন, ‘পানি সরার নর্দমা বন্ধ। আরামবাগের সমস্যাটা পুরানা। দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন মোটেই কাজ করেনি। তবে সেগুন বাগিচা এভাবে জলমগ্ন হওয়াটা অবাক করেছে।’
আরেকজন লিখেছেন, সিটি করপোরেশন আছে শুধুমাত্র নামে। মেয়র, কাউন্সিলর সবাই আছে টাকা কামানোর ধান্ধায়। একেকজন হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বসে আছে কিন্তু অসহায় জনগণের দুর্ভোগ নিয়ে ওদের কোনো মাথাব্যথা নাই। আফসোস!
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সাবেক মন্ত্রীর ওই পোস্টটি ১৪৮ বার শেয়ার করা হয়েছে। এবং মন্তব্যে অনেকেই দুঃখ প্রকাশ করেছেন।পোস্টের মন্তব্যে অনেকে তাদের বাসাবাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়া পানির ছবি দিয়েও মন্তব্য করেন।
শুক্রবার সকাল থেকে মুষলধারে বৃষ্টিতে রাজধানীর ফকিরেরপুল, নয়াপল্টন, বায়তুল মোকাররম, শান্তিনগর, মালিবাগ মোড়, আরামবাগ, প্রগতি সরণি, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি রাপা প্লাজা, বংশাল, মিরপুর রোকেয়া সরণি, দয়াগঞ্জ মোড়, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, নিমতলী, টয়েনবি সার্কুলার রোড, ধানমন্ডি ২৭, এলিফ্যান্ট রোড, মৎস্য ভবন, কারওয়ান বাজার, বিজয় সরণি, ঢাকা গেট ভিআইপি রোড ও মিরপুর মাজার রোডের বিভিন্ন জায়গার অনেক সড়ক তলিয়ে যায়।
এদিন ভোর থেকেই আষাঢ়ের শেষ দিকের বৃষ্টি ঝরছে ঢাকার আকাশ থেকে। বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক অলিগলিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় বাইরে কাজে বের হওয়া মানুষের সংখ্যা তুলনামূলক কম। সকালের বৃষ্টির শব্দে অনেকের ঘুম ভেঙেছে। তারপরেও যাদের কাজে বের হতে হয়েছে তারা পড়েছেন সীমাহীন ভোগান্তিতে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকায় ৬ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ১৩০ মিলিমিটার। এটা চলতি বর্ষা মৌসুমের স্বাভাবিক অবস্থায় রাজধানীতে এক দিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টি।
আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজধানীসহ প্রায় সারা দেশেই বৃষ্টি হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে কক্সবাজারে ৩০৯ মিলিমিটার। এ ছাড়া সন্দ্বীপে বৃষ্টি হয়েছে ২১৯ মিলিমিটার, সীতাকুণ্ডে ১০২ মিলিমিটার।







