এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
রাজধানীর পশ্চিম রামপুরায় ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে জমির মালিকের ছেলে তানজিল জাহান ইসলাম তামিম হত্যার ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। এ ঘটনায় ১৬ জনের নামে নিহতের বাবা সুলতান আহমেদ বাদী হয়ে হাতিরঝিল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যারমধ্যে এক নম্বর আসামি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. মামুন ও তিন নম্বর আাসামি বিএনপি নেতা ও প্লিজেন্ট প্রোপার্টিজ লিমিটেড এর কর্ণধার শেখ রবিউল আলম রবি।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. আবদুল লতিফ, মো. কুরবান আলী, মাহিন, মোজাম্মেল হক কবির ও বাঁধন। গতকাল ও আজ মালিবাগ ও রামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
নিহত ব্যক্তির নাম তানজিল জাহান ইসলাম তামিম (৩৪)। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা এবং জমির মালিক সুলতান আহমেদের ছেলে।গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এই হত্যার ঘটনা ঘটে। বাড়ি নির্মাণ ও ফ্ল্যাট ভাগাভাগি নিয়ে আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিরোধের জেরে জমির মালিকের ছেলেকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. মামুন ও বিএনপি নেতা ও প্লিজেন্ট প্রোপার্টিজ লিমিটেড এর কর্ণধার শেখ রবিউল আলম রবির প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে, তদন্ত করে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
আজ শুক্রবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেন তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. রুহুল কবির খান।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ভবন নির্মাণের জন্য জমির মালিক সুলতান আহমেদ প্লিজেন্ট প্রপার্টিজ (প্রা.) লিমিটেড নামে একটি আবাসন নির্মাণ কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেন। চুক্তি অনুসারে জমির মালিকদের ফ্ল্যাটের অংশ বুঝিয়ে দেওয়া নিয়ে জমির মালিকদের ও কোম্পানির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
তিনি জানান, জমির মালিককে প্লিজেন্ট প্রোপার্টিজ লিমিটেড পাঁচটি ফ্ল্যাট দেয়ার চুক্তি থাকলেও, তারা দুটি হস্তান্তর করেছে।বাকি তিনটির মধ্যে একটি ফ্ল্যাট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মামুন সাহেবের শশুরের কাছে বিক্রি করে প্লিজেন্ট প্রোপ্রার্টিস নামের ডেভেলপার কোম্পানির কর্ণধার শেখ রবিউল আলম রবি। ফ্ল্যাটটি তারা অবৈধভাবে জবরদখল করে রেখেছিল। যা নিয়ে গতবছর তিন বছর ধরেই দ্বন্দ্ব চলে আসছিলো। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জমির মালিক ভবনের সাত তলায় নিজের ফ্ল্যাটে কাজ করতে যান। এ সময় মামুনের সহযোগিতায় ডেভেলপার কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল লতিফসহ ২০ থেকে ২৫ জন দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা ও জমির মালিকের ছেলে তানজিল জাহান ইসলাম তামিমের ওপর হামলা করে। আহত অবস্থায় তামিমকে রাজধানীর মনোয়ারা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে ডিসি তেজগাঁও বলেন, আমরা রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করছি না। আমরা অপরাধ ও অপরাধী হিসেবে দেখছি। সে যেই হোক, তার দায় থাকলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আমরা চার্জশিট দেবো। আমরা প্রাথমিকভাবে তার (ডেভেলপার কোম্পানির মালিক) সম্পৃক্ততা পাচ্ছি। এই ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল তা তদন্তে উঠে আসবে। এছাড়া মাদকের ওই কর্মকর্তাকে মামলার ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। আমরা তার সম্পৃক্ততার বিষয় তদন্ত করে দেখবো। বিএনপি নেতা রবিউল ৩ নম্বর আসামি।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জমির মালিকের সঙ্গে ডেভেলপার কোম্পানির দ্বন্দ্ব। সুতরাং তার তো দায়ই থাকবে। বাকিটা তদন্তে উঠে আসবে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাব থাকায় পুলিশ আগে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি এমন অভিযোগ রয়েছে জানতে চাইলে রুহুল কবীর বলেন: হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) দায়িত্বে অবহেলার দায়ে ইতোমধ্যে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তার অবহেলার প্রমাণ পেয়েছি।







