বিনোদন

‘মিস্টার বাদল’ দেখে মুগ্ধ, সুইডেনে মিললো স্বীকৃতি

স্টকহোম সিটি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২৬-এর ফিচার ফিল্ম বিভাগে সেরা পরিচালকের পুরস্কার জিতেছে ‘মিস্টার বাদল’

‘মিস্টার বাদল’ দেখে মুগ্ধ, সুইডেনে মিললো স্বীকৃতি

এবার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে স্বীকৃতি পেল বাংলাদেশের ইউটিউব কনটেন্ট ‘মিস্টার বাদল’। সুইডেনের স্টকহোম সিটি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২৬-এর ফিচার ফিল্ম বিভাগে সেরা পরিচালকের পুরস্কার জিতেছে কনটেন্টটি।

এর লেখক ও পরিচালক মো. আশরাফুজ্জামান অর্জন করেছেন এই পুরস্কার।

গত ৯ অক্টোবর উৎসবে ‘মিস্টার বাদল’-এর প্রদর্শনী হয়। পরদিন, ১০ অক্টোবর পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন আশরাফুজ্জামান ও অভিনেতা জিয়াউল হক পলাশ।

প্রদর্শনীতে বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সমালোচকেরা ‘মিস্টার বাদল’ দেখেন। এর গল্প, চিত্রনাট্য ও নির্মাণশৈলীর পাশাপাশি প্রশংসা পান প্রধান দুই অভিনয়শিল্পী জিয়াউল হক পলাশ ও পারসা ইভানা। ইতালি, ফ্রান্স ও তুরস্কের কয়েকজন নির্মাতার অনুরোধে একপর্যায়ে অনলাইনে যুক্ত হন পারসা ইভানা। এ সময় তার অভিনয়ের প্রশংসা করেন তারা।

ইউটিউবে ইতোমধ্যে ৯৩ লাখের বেশি ভিউ পেয়েছে ‘মিস্টার বাদল’। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দর্শকপ্রিয়তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও স্বীকৃতি পেল কনটেন্টটি।

এই অর্জনে আনন্দ প্রকাশ করে আশরাফুজ্জামান বলেন, “বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ইংমার বার্গম্যানের দেশ সুইডেনে ‘মিস্টার বাদল’-এর এই অর্জন অবশ্যই আনন্দের ও গর্বের। একজন বাংলাদেশি নির্মাতা হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের কাজের স্বীকৃতি পাওয়া আমার জন্য বিশেষ প্রাপ্তি।”

তিনি আরও বলেন, “আমি সব সময় চেয়েছি, এমন কনটেন্ট তৈরি করতে, যেখানে বিপুলসংখ্যক দর্শককে স্পর্শ করার মতো বিষয় থাকবে, পাশাপাশি শিল্পমানও এমন হবে, যেন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতে প্রতিযোগিতা করতে পারে। ‘মিস্টার বাদল’ সেই চেষ্টারই একটি অংশ। ভবিষ্যতেও এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘মিস্টার বাদল’-এর যাত্রা অব্যাহত রয়েছে। কনটেন্টটি ১১তম কানাডা ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ এবং যুক্তরাজ্যের ফোকস্টোন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালেও অফিসিয়াল সিলেকশন পেয়েছে।

বাংলাদেশে বড় বাজেটের চলচ্চিত্র নির্মাণের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে আশরাফুজ্জামান বলেন, “বড় বাজেটের চলচ্চিত্র নির্মাণের সুযোগ আমাদের দেশে তুলনামূলকভাবে কম। তাই সীমিত বাজেটের মধ্যেই একদিকে দর্শকের ভালোবাসা অর্জন করা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতে প্রতিযোগিতা করার মতো কনটেন্ট তৈরি করা, এটাই এখন আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আমি এই চ্যালেঞ্জ নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে চাই।”

ইউটিউবে বিপুল দর্শকপ্রিয়তা এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে স্বীকৃতি পাওয়ার মধ্য দিয়ে ‘মিস্টার বাদল’ বাংলাদেশের অনলাইনভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাণের সম্ভাবনাকে তুলে ধরেছে। দেশীয় দর্শকের ভালোবাসা অর্জনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজেদের কাজ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই অর্জন বাংলাদেশের নির্মাতাদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।

বিষয়:জিয়াউল হক পলাশ পলাশ মিস্টার বাদল সিনেমা

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…