বিনোদন

প্রবীর মিত্রের প্রয়াণে চ্যানেল আই ভবনে শোক বই

চ্যানেল আই ভবনে শোক বই ও স্মৃতিচিহ্নের ছবি. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

চ্যানেল আই ভবনে প্রবীর মিত্রের প্রয়াণে শোক বই ও স্মৃতিচিহ্নের ছবি, যা বাংলাদেশের জাতীয় সংবাদ ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের অংশ।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

রবিবার দিবাগত রাত সোয়া দশটায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন দেশি সিনেমার কিংবদন্তী অভিনেতা প্রবীর মিত্র। তার মৃত্যুতে শুধু চলচ্চিত্র জগতই নয়, পুরো সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া। গুণী এই মানুষটির স্মরণে চ্যানেল আইতে রাখা হয়েছে শোক বই।

অভিনেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই চ্যানেল আই কার্যালয়ে রাখা হয়েছে ছবিসহ তার নামে একটি শোক বই।

যেখানে তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করছেন শোবিজ অঙ্গনের পরিচিত মুখ থেকে সাধারণ ভক্ত অনুরাগীরাও। সোমবার সকাল থেকেই শোক বইয়ে বহু গুণীজনকে দেখা গেছে প্রবীর মিত্রকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে।

এরইমধ্যে রবিবার দুপুর ১টার কিছু আগে শেষবারের মতো প্রবীর মিত্রকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে দীর্ঘদিনের কর্মস্থল এফডিসিতে। সেখানে শেষবার এই অভিনেতাকে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন চলচ্চিত্রের গুণী মানুষেরা। পরে সেখানেই হবে তার প্রথম নামাজে জানাজা।

এফডিসি থেকে অভিনেতার মরদেহ নিয়ে আসা হবে চ্যানেল আইয়ের কার্যালয়ে। এখানে দুপুর ২টায় শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে অভিনেতার দ্বিতীয় নামাজে জানাজা হবে। পরে আজিমপুর কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন বাংলা সিনেমার এই নবাব।

বেশ ক’বছর ধরেই বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন প্রবীর মিত্র। গত ২২ ডিসেম্বর রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। শরীরে অক্সিজেন স্বল্পতাসহ বেশ কিছু জটিল সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি৷ অবস্থার অবনতি হলে এরপর আইসিইউতে নেয়া হয়। রবিবার দিবাগত রাত ১০টা ১৫ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট কুমিল্লার চান্দিনায় জন্মগ্রহণ করেন প্রবীর মিত্র। তার পুরো নাম প্রবীর কুমার মিত্র। পুরান ঢাকায় বড় হওয়া প্রবীর মিত্র স্কুলজীবন থেকেই নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত হন।

স্কুলজীবনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ডাকঘর’ নাটকে অভিনয় করেছিলেন প্রবীর মিত্র। পরবর্তীতে পরিচালক এইচ আকবরের হাত ধরে ‘জলছবি’ নামে একটি চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়েছে বড়পর্দায় তার অভিষেক হয়। মূলত এ ছবিতে কাজের ব্যাপারে তার বন্ধু এটিএম শামসুজ্জামানই তাকে সহযোগিতা করেছিলেন। ১৯৪০ সালে পুরনো ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী প্রবীর মিত্র স্কুলজীবন থেকেই নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত হন।

‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘চাবুক’-এর মতো সিনেমায় নায়কের ভূমিকায় দেখা গেছে প্রবীর মিত্রকে। এছাড়া ‘রঙিন নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ সিনেমায় মূখ্য চরিত্রে ছিলেন তিনি। এ কারণেই অনেকে তাকে ঢাকাই সিনেমার ‘রঙিন নবাব’ বলে ডাকেন।

তার অভিনীত অনান্য উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলো হচ্ছে- জীবন তৃষ্ণা, সীমার, তীর ভাঙা ঢেউ, প্রতিজ্ঞা, অঙ্গার, পুত্রবধূ, নয়নের আলো, চাষীর মেয়ে, দুই পয়সার আলতা, আবদার, নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ ইত্যাদি। অনলাইন ফিল্ম স্ট্রিমিং পরিষেবা

কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ ১৯৮২ সালে মহিউদ্দিন পরিচালিত ‘বড় ভালো লোক ছিলো’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান প্রবীর মিত্র। আর ২০১৮ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে তাকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়।

বিষয়:এফডিসি চ্যানেল আই প্রবীর মিত্র শোক বই

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…