মাসের ১৫–২০ দিন নিয়মিত কাজ করতেন মৌ শিখা। ছোট ও বড় পর্দা—দুই মাধ্যমেই ছিল তার ব্যস্ত উপস্থিতি। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই ছন্দে ছেদ পড়ে। গত আড়াই মাস ধরে কাজের পরিমাণ নেমে এসেছে আশঙ্কাজনকভাবে। মাসে গড়ে মাত্র ৪–৫ দিনের মতো কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।
আর এ পরিবর্তন তার ভেতরে তৈরি করেছে গভীর হতাশা ও অনিশ্চয়তা, যার খোলামেলা প্রকাশ ঘটেছে সাম্প্রতিক এক আবেগঘন ফেসবুক পোস্টে।
অভিনেত্রী মৌ শিখা শুক্রবার দিবাগত রাতে তার ফেসবুকে লেখেন,“এতদিন নিজেকে অভিনেত্রী হিসেবেই জানতাম। কিন্তু গত আড়াই মাস ধরে নিজেকে অভিনেত্রী ভাবতেও লজ্জা লাগে। অভিনয় করেই আমার সংসার চলে। কাজ না থাকলে কীভাবে বলব আমি একজন অভিনয়শিল্পী?”
২৫ বছর ধরে মিডিয়ায় সক্রিয় মৌ শিখা জানান, তিনি তার পারিশ্রমিক বাড়াননি, বরং এখনও স্বাভাবিক এবং গ্রহণযোগ্য পারিশ্রমিকেই কাজ করতে প্রস্তুত। তবুও হঠাৎ করেই নির্মাতাদের আগ্রহ তার প্রতি কমে গেছে—এটা মেনে নিতে পারছেন না তিনি।
প্রশ্ন রেখে শিখা বলেন,“হঠাৎ করে কেন কাজ কমে গেল? আমাকে ডিরেক্টররা ডাকছেন না কেন? মনে করছেন না কেনো তাদের গল্পের চরিত্রের সাথে আমি নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারব? আমি তো আমার রেমুনারেশন বাড়াইনি, ২৫ বছর যাবত মিডিয়ায় আছি এখনো আমার রেমুনারেশনও খুব একটা বেশী না, তাহলে?”
মৌ শিখা লেখেন,“আমি জানি বেঁচে থাকতে আমার মূল্যায়ন না হলেও, মৃত্যুর পর হয়তো কেউ বলবে ‘আহারে, মহিলা তো কত ভালো ছিল, কত সহজ-সরল ছিল।’ কিন্তু তাতে কি লাভ হবে! বেঁচে থাকতেই দেখে যেতে চাই আমার মূল্যায়ন হচ্ছে, কিন্তু সেটা কি আদৌ দেখে যেতে পারবো আমি, জানি না।”
“তবে আমার অনুরোধ, আমি মরে গেলে দয়া করে কেউ আফসোস করবেন না। আমাকে মনে করারও কোন দরকার নেই।” হতাশা প্রকাশ করে লিখেছেন এই অভিনেত্রী।
সবশেষে অভিনেত্রী লিখেন, “যে কত দিন বাঁচি, কাজ করে যেতে চাই। আপনারা ব্যাপারটা দেখবেন আমার সহকর্মী যারা আছেন, তারা আমার ব্যাপারটা দেখে একটু সাহায্য করবেন। একটা শিল্পীর জন্য হঠাৎ করে কাজ কমে যাওয়া কম কিছু না, আপনারা পাশে থেকে আমাকে সাহায্য করবেন, আল্লাহ সহায় আছে।”
মৌ শিখার এমন পোস্টে বহু মানুষ মন্তব্য করছেন। বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে সংবাদও। যে সংবাদটি দেখে শোবিজের অনেকে বলছেন, একজন শিল্পীর এমন সরল স্বীকারোক্তি বর্তমান শোবিজ অঙ্গনের বাস্তবতাকে আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। আর নেটিজেনরা প্রত্যাশা করে বলছেন, মৌ শিখার এই আহ্বান যেন শুধু একটি পোস্ট হয়ে না থাকে, বরং শিল্পীদের প্রতি সম্মান ও দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলে সকলের মাঝে!







