আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সারাদেশে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে ৩৭ হাজারেরও বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
শনিবার রাজধানীর মিরপুর জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান বিজিবি ঢাকা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম আবুল এহসান। এর আগে তিনি রাজধানীর বিভিন্ন নির্বাচনী বেইস ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।
তিনি জানান, দেশের মোট ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টিতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বাহিনীটি স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করছে। পাশাপাশি দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে বিজিবি সদস্যরা মোবাইল ও স্ট্যাটিক—উভয় ধরনের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।
কর্নেল এস এম আবুল এহসান বলেন, “প্রতিটি উপজেলায় গড়ে দুই থেকে চারটি প্লাটুন দায়িত্ব পালন করবে। একই সঙ্গে নির্বাচনী সময়জুড়ে দেশের পুরো ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত কঠোর নজরদারিতে রাখা হবে।”
তিনি আরও জানান, শুধু ঢাকা সেক্টরের আওতায় ৯টি জেলা ও ৪টি সিটি করপোরেশনের ৫১টি আসনে ৪২টি অস্থায়ী বেইস ক্যাম্পে মোট ১৩৪টি প্লাটুন মোতায়েন থাকবে। এসব দায়িত্ব পালন করবে ঢাকা ব্যাটালিয়ন (৫ ও ২৬ বিজিবি), নারায়ণগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৬২ বিজিবি) এবং গাজীপুর ব্যাটালিয়ন (৬৩ বিজিবি)।
যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় বিজিবির র্যাপিড অ্যাকশন টিম (RAT), কুইক রেসপন্স ফোর্স (QRF) ও হেলিকপ্টার ইউনিট সর্বক্ষণ প্রস্তুত থাকবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি বিশেষ তল্লাশি অভিযানের জন্য মোতায়েন করা হচ্ছে ক্যানাইন (কে-৯) ডগ স্কোয়াড ইউনিট।
বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের জন্য সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
নিরাপত্তা জোরদারে আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানান কর্নেল আবুল এহসান। এসবের মধ্যে রয়েছে বডি-ওর্ন ক্যামেরা, নাইট ভিশন ডিভাইস, মেটাল ডিটেক্টর, আর্মার্ড পারসোনেল ক্যারিয়ার (এপিসি) এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা—যা স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
এছাড়া নির্বাচন পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যাটালিয়ন ও সেক্টর সদর দপ্তরে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।
ভোটের দিন বিজিবি সদস্যরা নিয়মিত টহল, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন এবং যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি চালাবে, যাতে কোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়।
বিজিবি কর্তৃপক্ষ রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে জানায়, সব রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই বাহিনীটির মূল লক্ষ্য।
বিজিবি কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।








