অগণিত ভক্তের পূজা-অর্চনার মধ্যে দিয়ে দিনাজপুরে ঐতিহাসিক শ্রী শ্রী কান্তজিউ মন্দিরে শুরু হয়েছে মাসব্যাপি রাস মেলা। বুধবার ৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে কান্তজীউ মন্দিরের চারপাশে এবং বাইরে বসেছে বিশাল চত্বর জুড়ে মেলা।
গভীর রাতে ধর্মীয় আচার-আচরণে পুজোর মধ্যে দিয়ে পালিত হয় রাস উৎস। দেশের দূর দুরান্ত থেকে আসা হাজারও ভক্ত, পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে মন্দির চত্বর। সারা রাত অগনিত ভক্তকুল তাদের মনোবাসনা পুরণে মন্দির দর্শন ও প্রার্থনা করেন। আয়োজকরা জানালেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে রাস মেলায় মিলন ঘটবে সব ধর্মের মানুষের। মেলায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নেয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
রাজ বংশের পরিবার প্রচলিত চিরাচরিত প্রথা অনুযায়ী প্রতিবছর পুর্ণিমা তিথিতে কান্তজীউ মন্দির প্রাঙ্গণে শুরু হয় রাস মেলা। রাতভর মন্দিরের চারদিকে ভজন, কীর্তন আর ধর্মীয় সঙ্গীতের ধ্বনিতে অন্যরকম এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় ঐতিহাসিক এই মন্দির ঘিরে।
রাস পূর্ণিমার রাত থেকেই এখানে ভিড় করে দেশ-বিদেশের হাজারো ভক্ত, পুন্যার্থী ও দর্শক। দূর-দুরান্ত থেকে তারা এখানে কেউ আসেন মনোবাসনা পুরনে, কেউ আসেন পুণ্য লাভের আশায় আবার কেউ আসেন মন্দির দর্শনে। রয়েছে অসংখ্য খাবারের দোকান, মৃৎ শিল্প, কারু শিল্প, চুরি, শাখা, সিঁদুরসহ নানা ধরনের ধর্মীয় পুস্তকের দোকান ।
মেলাকে আকর্ষণীয় করতে প্রদর্শনী ও সার্কাস, পুতুল নাচ আয়োজন রাখা হয়েছে। নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া, রাজশাহী, ফরিদপুর, বৃহত্তর দিনাজপুর- রংপুর জেলার হাজার হাজার মানুষ রাস উৎসব দর্শন করতে এমনকি পার্শবর্তী দেশের পর্যটক এবং ভক্তবৃন্দের সমাগম ঘটেছে মেলায়।
রাস উৎসবের রাতে মন্দির আঙ্গিনায় রাত্রি যাপন করা মহাপূণ্যেও কাজ ভক্তরা বিশ্বাস করেন।








