কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেন দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় অঝোরে কেঁদেছেন কুমিল্লা-৬ (সদর-সদর দক্ষিণ) আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। রোববার (২২ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে সিঙ্গাপুর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে তিনি এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায় রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে অবহিত করেন।
মনিরুল হক চৌধুরীর সঙ্গে মন্ত্রীকে কথোপকথনের ভিডিও তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয়েছে।
ভিডিওতে দেখা গেছে, সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে অঝোরে কাঁদতে দেখা গেছে। কাঁদতে কাঁদতে মন্ত্রীকে তিনি বলেন, ‘এটা নতুন ঘটনা না, গত ১০০ বছর এ ঘটনা ঘটছে, কেউ বিচার করে না। আমি চেষ্টা করেছি সাধ্যমতো। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে সব কাগজপত্র আছে রেল সচিবের কাছে। পদুয়ার বাজার ব্যারিকেডে ম্যাডাম (বেগম খালেদা জিয়া) টাকা দিয়েছিল, লুট করে খেয়ে ফেলেছে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়। এই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জন্য ৭৫০ কোটি টাকা দিয়েছিল সাইফুর রহমান, এই কাজটি কমপ্লিট করতে পারি নাই।’
এ সময় অপর প্রান্ত থেকে মন্ত্রী শেখ রবিউলকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি সেদিনও বলেছেন, সেদিনও বলেছেন।’
সঙ্গে সঙ্গে মনিরুল হক চৌধুরী কান্না করে বলেন, ‘আপনি একটু গিয়ে দেখুন। আমার ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্ট কাল রাতে। ডাক্তার দেখানো হলে আমি কাল রাতেই ফ্লাইট ধরার চেষ্টা করব। এই লাশ দেখতে দেখতে আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি ভাই রবিউল, এই পদুয়ার বাজার রেলওয়ে ব্যারিকেড.. আমি শান্তি পাবো জীবনে। আমি কাউকে নিতে পারি নাই, আপনি একটু দেখে আসেন। মির্জা ফখরুলকে নোয়াখালী যাওয়ার সময় দেখিয়েছিলাম। আপনি একটু দেখে আসেন।’
এ সময় মন্ত্রী শেখ রবিউলকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি যাচ্ছি রওনা দিয়ে। আমি যা করার করব।
সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুক। আপনি আমার ডাকে সাড়া দিয়েছেন।’
দুর্ঘটনা ঘটে শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে। কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে মামুন পরিবহন নামের যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা দেয় চট্টগ্রাম-ঢাকা যাওয়া মেইল ট্রেন। এতে প্রথমে ৭ জন নিহত হলেও পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে।
ঘটনার পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল। উদ্ধার কাজে অংশ নেয় আখাউড়া থেকে পাঠানো রিলিফ ট্রেন, ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাব। সকাল ৮টার দিকে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়। দুর্ঘটনার পর রেলক্রসিংয়ের দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান ২৫ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ সহায়তা ঘোষণা করেছেন। দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয়ে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।








