ডাচ বাংলা ব্যাংকের সোয়া ১১ কোটি টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় টাকা বহনকারী প্রতিষ্ঠান মানি প্ল্যান্ট লিঙ্ক প্রাইভেট লিমিটেডের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এত বিশাল অঙ্কের টাকা বহনের সময় কোন গানম্যান রাখা হয়নি, এমনকি এত সকালে নির্জন রাস্তা দিয়ে টাকা বহনের সময় পুলিশকেও আগে থেকে অবগত করেনি প্রতিষ্ঠানটি।
টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা তদন্তকারী সংস্থা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বলছে, প্রতিষ্ঠানটির ২/৩ জন গানম্যান আছেন যারা অফিসেই থাকেন। কোনধরনের নিরাপত্তা ছাড়াই প্রতিদিন ৪/৫ টি গাড়িতে টাকা বহন করত মানি প্ল্যান্ট লিঙ্ক প্রাইভেট লিমিটেড।
ঘটনার দিন গাড়িতে থাকা মানি প্ল্যান্টের ৫ জনকে পল্লবী থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাদের কাছ থেকে সেদিনের ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ জানার চেষ্টা করছে।
টাকা সোয়া ১১ কোটি ছিল কিনা তদন্ত হচ্ছে
ডিবি প্রধান মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ বলেন, সোয়া ১১ কোটি টাকা পরিবহনের সময় নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা অর্থাৎ গার্ডের জন্য অস্ত্রসহ কোন নিরাপত্তা কর্মী ছিল না। অধিকাংশ সময় এইভাবে অধিক টাকা পরিবহন হয় যা পরিবহনকৃত টাকা নিরাপত্তা বিধানে অপ্রতুল।
টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৮ জনের সঙ্গে মানি প্ল্যান্ট লিঙ্কের কারো যোগাযোগ ছিল কি-না জানতে চাইলে হারুন বলেন: আমরা এ ব্যাপারে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছি, সাক্ষ্য নিচ্ছি, গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত আছে৷ মানি প্ল্যান্ট লিঙ্কের যে পরিমাণ টাকা ট্রাঙ্কে থাকার কথা বলেছে, সেটাও ছিল কিনা তদন্ত করছি।
তারা যে এতো পরিমাণ টাকা লেনদেন বা বহন করছিল তারা থানাকে জানাননি। এতোদিন যাবত তারা যে বিভিন্ন ব্যাংকের টাকা লেনেদন করেন, কোনোদিন তারা থানা পুলিশকে অবহিত করেননি। এর সব কিছু আমরা তদন্ত করছি।
গ্রেপ্তারদের পরিচয় বা পেশাদার ডাকাত কি-না জানতে চাইলে ডিবি প্রধান বলেন, আমরা আপাতত এ ব্যাপারে কিছু জানাচ্ছি না। যেহেতু আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে, অভিযানের স্বার্থেই বলছি না।
যা বলছে মানি প্ল্যান্ট লিংক
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মানি প্ল্যান্ট লিঙ্ক প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক অজয় কর বলেন: সেদিন আমাদের সত্যিই টাকা বহনকারী গাড়িতে গানম্যান ছিল না। তবে সিকিউরিটির লোকজন ছিল। ডাকাত দলের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, মারামারিও হয়েছে। ডাকাত দল আমাদের গাড়ির দরজাও ভেঙে ফেলেছে।
টাকা বহনের ক্ষেত্রে পুলিশকে না জানানোর বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন: সাধারণত টাকা বহনের সময় পুলিশকে জানানো হয় না। কারণ এটা আমাদের রেগুলার একটিভিটিজ। সপ্তাহে পাঁচদিনই আমাদের এই কার্যক্রম চলে। শুধু আমরা না, টাকা বহনে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও জানায় না।
গাড়িতে গানম্যান না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন: প্রতি মাসের বেতনের সময় আমাদের সিডিউলে ব্যাপক চাপ পড়ে। চাপের কারণে সিডিউলের বাইরে গিয়েও আমাদের নিয়োজন করতে হয়।
ফাঁকা রাস্তায় এতো পরিমাণ টাকা নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অজয় কর বলেন, আমাদের মিরপুর ডিওএইচএস অফিস থেকে মেট্রো রেলের নিচ দিয়ে তুরাগ পর্যন্ত যাবার নতুন রাস্তা হয়েছে। গত ২/৩ মাস ধরে ওই সড়কটি ব্যবহার করা হচ্ছিল। এতে সময় সাশ্রয় হচ্ছিল।
গাড়িতে থাকা কারো সঙ্গে ছিনতাইকারীদের যোগসাজস থাকতে পারেরে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা তদন্তাধীন বিষয়, ডিবি পুলিশ সেটা তদন্ত করেছে। তবে পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়া এমন ঘটনা হঠাৎ করে ঘটেনি। যারা ছিনতাই করেছে তাদের হয়ে টাকা বহনকারী গাড়িতে তথ্যদাতা থাকতে পারে।
মানি প্ল্যান্টের ৫ জনকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ
সোয়া ১১ কোটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় সেদিন গাড়িতে থাকা টাকা নিয়ে যাওয়া মানি প্লান্ট কোম্পানির ৫ জনকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সেদিনের ঘটনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জানার জন্য তাদেরকে পল্লবী থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন ডিএমপির ঊর্ধ্বতনরা।
ডিবি জানায়, এখন পর্যন্ত ছিনতাই হওয়া সোয়া ১১ কোটি টাকার মধ্যে মোট উদ্ধার হলো ৬ কোটি ৪৩ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা।
ডিবি বলছে, শনিবার রাতে ২ কোটি ৫৩ লাখ ৯৮ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধারসহ ৮ অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া ঘটনার দিন ৯ মার্চ উদ্ধার করা ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
গত ৯ মার্চ সকালে রাজধানীর উত্তরার তুরাগ থানাধীন দিয়াবাড়ী ১১ নং সড়কে ডাচ বাংলা ব্যাংকের টাকা বহনকারী মানি প্লান্ট লিঙ্ক প্রাইভেট লিমিটেডের গাড়ি থেকে সোয়া ১১ কোটি টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
ওই ঘটনায় অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করে ৯ মার্চ দিনগত রাতে মানি প্ল্যান্ট লিঙ্ক প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক আলমগীর হোসের বাদী হয়ে তুরাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে ডিবি পুলিশ।








