এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
সময় যতো গড়ায়, বয়স তত বাড়ে। ক্ষয় হতে থাকে তারুণ্যের শক্তি। মানব জীবনের চিরন্তন এ সত্য ক্রীড়াঙ্গনেও প্রযোজ্য। তবে বয়সকে হার মানিয়ে দুরন্ত গতিতে ছুটে চলার দৃষ্টান্তও কম নয়। বুড়ো হাড়ের ভেল্কি দেখানো খেলোয়াড়দের নিয়েও তাই চলে মাতামাতি। ভক্ত-সমর্থক থেকে শুরু করে গণমাধ্যমেও ঝরে প্রশংসা। নামগুলো যদি হয় লুকা মদ্রিচ আর টনি ক্রুস, তখন হয়তো শেষই হবে না বন্দনা।।
লস ব্লাঙ্কোসদের সঙ্গে মদ্রিচ ও ক্রুসের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ আগামী ৩০ জুন শেষ হবে। যদিও চুক্তি নবায়নের সম্ভাবনার পালে জোরালো হাওয়া লেগেছে। যদিও গত গ্রীষ্ম মৌসুমে জল্পনা ছিল, এদের অন্তত একজন সান্তিয়াগো বার্নাব্যু ছাড়বেন। এবার অবশ্য মিলছে ভিন্ন খবর।
রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যমাঠের এই দুই প্রাণভোমরা যেন দলের অক্সিজেন। আক্রমণ গড়ে দেয়ার মূল দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে স্প্যানিশ জায়ান্টদের অর্জনের খাতাটা ভারি করায় তারা অতুলনীয়। তাই বয়সকে ছাড়িয়ে পারফরম্যান্স ও দলের প্রতি নিবেদনের বিষয়টিকে মাথায় রাখতেই হয়। আর সেজন্যই হয়তো মদ্রিচ-ক্রুস জুটিকে রিয়াল নিজেদের ডেরায় রেখে দিতে চাইছে।
ইতালিয়ান ক্রীড়া সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ৩৮ বর্ষী মদ্রিচকে নিয়ে জানিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। ক্রোয়েশিয়ান সুপারস্টার নিজেই রিয়ালে থাকার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। আগামী মৌসুমে স্প্যানিশ জায়ান্টদের হয়ে খেলা চালিয়ে যেতে চান। বেতনের পরিমাণ নিয়েও ক্লাবকে কোনো প্রকার চাপ দেবেন না বলেও নাকি সাফ বলে দিয়েছেন। তিনি ইতিমধ্যে দুটি বড় প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছেন। রিয়ালের সঙ্গে নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের আশায় বসে আছেন।
তিনি নিজে অবশ্য ক্লাবের সাথে চুক্তি নবায়নের বিষয়ে ক্লাবের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ পারেননি। গত সপ্তাহে ক্রোয়েশিয়ার একজন এজেন্ট এটি নিশ্চিত করেছেন। ২০১৮ সালে ব্যালন ডি’অর জয়ী ফুটবলার তাই ক্লাবের সিদ্ধান্তের দিকেই চেয়ে আছেন।
ক্রুস যতদিন শারীরিক এবং মানসিকভাবে ক্লাবে ভালো বোধ করছেন, ততদিন তাকে রাখার ব্যাপারে ইতিবাচক মানসিকতায় রয়েছে লা লিগার বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ৩৪ বর্ষী জার্মান আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেও ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের আগে সিদ্ধান্ত পাল্টে জাতীয় দলে ফিরেছেন। গত মৌসুমে রিয়ালের জার্সিতে স্কোয়াডে থাকা খেলোয়াড়দের ভেতর যা সময়ের বিবেচনায় ষষ্ঠ সর্বাধিক ৩,০০৭ মিনিট খেলেন। এক গোল করার পাশাপাশি নয়টি অ্যাসিস্টও তার পা থেকে এসেছিল।
চলতি মৌসুমে লা লিগা জয় এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পৌঁছানো এবং দুর্দান্ত ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের কারণে ক্লাব আবারো মদ্রিচ ও ক্রুসের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছে।
কোচ কার্লো আনচেলত্তিও চান তারা দুজনেই থাকুক। তার বিশ্বাস, দুই মিডফিল্ডারের পারফরম্যান্স চমৎকার। যদিও আগামী সপ্তাহের আগে তাদের ভাগ্যে কি ঘটছে তা জানার উপায় নেই। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালের পরই হয়তো মিলবে সব খবর।







