ভারতের লোকসভা নির্বাচন শেষে প্রকাশিত হয়েছে ফলাফল। নির্বাচনে টানা তৃতীয়বার সরকার গঠনের পূর্ণ ভরসায় ছিল নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি। তবে আশানুরূপ ফল পায়নি দলটি। এখন সরকার গঠনে ভরসা করতে হচ্ছে জোটভুক্ত দলগুলোর উপর।
বুধবার (৫ জুন) হিন্দুস্তান টাইমস এর প্রতিবেদনে বলা হয়, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। আর টানা তৃতীয় মেয়াদে সম্ভাব্য আগামী ৮ জুন প্রধানমন্ত্রীর শপথ নিতে যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। তবে তার আগে মীমাংসা করতে হবে জোটভুক্ত দলগুলোর দাবি দাওয়া।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ভোটের ফলাফল ঘোষণার একদিন পর আজ বুধবার ১৭তম লোকসভা ভেঙে দেওয়ার সুপারিশ করেছে। তবে বর্তমান লোকসভার মেয়াদ ১৬ জুন শেষ হতে চলেছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার গঠনের জন্য লোকসভায় নূন্যতম ২৭২টি আসন প্রয়োজন হয়। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এবং অন্ধ্রপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর তেলুগু দেশম পার্টির সমর্থন পেলে তবেই বিজেপি সরকার গড়তে পারবে।
এই দুই নেতা এখন এনডিএ জোটে থাকলেও দুজনেই রাজনৈতিক কৌশল আর জোট বদল করতে সিদ্ধহস্ত।
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী তথা জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর প্রধান নীতীশ কুমার একটা সময়ে বিজেপির জোট সঙ্গী থাকলেও তিনি কয়েক বছর আগে এনডিএ ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন এবং বিজেপি-বিরোধী দলগুলোকে নিয়ে ‘ইন্ডিয়া’ জোট গঠনের অন্যতম কারিগরও ছিলেন।
তবে এবছরের জানুয়ারিতে আবারও জোট বদল করে এনডিএ-তে যোগ দেন তিনি। বিহারে এখন এনডিএ-র সঙ্গে সরকার চালাচ্ছেন তিনি, এবং লোকসভা নির্বাচনেও এই জোটে সামিল ছিল তার দর।
ঘটনাচক্রে, নীতীশ কুমার এবং চন্দ্রবাবু নাইডু দুজনেই কিছুদিন আগে পর্যন্ত মোদী সরকার-বিরোধী অবস্থানে ছিলেন। সেই কারণেই এনডিএ জোটে তারা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন। সরকার গঠন করতে হলে মোদী ও বিজেপিকে এখন পুরনো এই জোটসঙ্গীদের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে চলতে হবে।
আজ বিকেলে প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবনে এনডিএ নেতাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। আবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গে লোকসভা ভোটে অনুকূল ফলাফলের পরে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপের কৌশল নির্ধারণের জন্য তার বাড়িতে বিরোধী ইন্ডিয়া জোট নেতাদের একটি বৈঠকের আহ্বান জানান।
ভোটের ফলাফল
ভারতের নির্বাচন কমিশন ৫৪৩টি লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে ৫৪২টির ফলাফল ঘোষণা করেছে। এককভাবে বিজেপি ২৪০টি আসন পেয়েছে, অন্যদিকে কংগ্রেস পেয়েছে ৯৯টি আসন।
ভারতের নির্বাচন কমিশন ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ২৯৩ আসন পেয়েছে। ইন্ডিয়া জোট পেয়েছে ২৩৩টি আসন। বিজেপি একা সরকার গঠনের জন্য ২৭২ ম্যাজিক ফিগারের কাছে পৌঁছাতে ব্যর্থ। দলটি পেয়েছে ২৪০ আসন। কংগ্রেস পেয়েছে ৯৯টি।
এর অর্থ, বিজেপিকে সরকার গড়তে হলে নির্ভর করতে হবে প্রধানত দুই শরিক নীতীশ কুমারের জেডি–ইউ ও অন্ধ্র প্রদেশের চন্দ্রবাবু নাইডুর দল তেলেগু দেশম পার্টির (টিডিপি) ওপর। এই দুই দলের সম্মিলিত আসন ২৮টি।
২০১৯ সালের নির্বাচনের তুলনায় দেশটিতে জনপ্রিয়তা হারিয়েছে বিজেপি। গত নির্বাচনে বিজেপি এককভাবে জয় লাভ করে ৩০৩টি আসনে। আর ২০১৪ এর নির্বাচনে পেয়েছিল ২৮২টি আসন। সেই হিসেবে টানা ১০ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে মোদির সমর্থক।
বিপরীতে, যথেষ্ট অগ্রগতি দেখিয়েছে কংগ্রেস। গত নির্বাচন অর্থ্যাৎ ২০১৯ সালে তারা জয় পেয়েছে ৫২টি আসনে আর ২০১৪ এর নির্বাচনে পায় ৪৪টি আসন।







