এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ত্বকের খেয়াল রাখতে বেশ কিছু অ্যাপ রয়েছে। অ্যাপগুলো ব্যবহারও সহজ। সেলফোনের ক্যামেরা দিয়ে আঁচিলের ছবি তুলে যদি ছবির মান ভালো হয়, তাহলে অ্যাপ তা যাচাই করে কয়েক সেকেন্ডেই পরামর্শ দেবে।
এরকম একটি অ্যাপ ব্যবহার করছেন টিলো কখ্স। তার ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকি রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমার ত্বক ফর্সা এবং ছোটবেলা থেকেই অনেক আঁচিল রয়েছে। আমি তখনই একশ’টির বেশি গুনেছিলাম এবং আমার পরিবারের দুই সদস্যের ত্বকের ক্যান্সার রয়েছে। সুতরাং এই অ্যাপটি চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্টের মাঝের সময়ে নিজে যাচাইয়ের জন্য ভালো। অ্যাপ বলছে মাঝারি ঝুঁকি৷ এই আঁচিলটা চিকিৎসককে পরীক্ষা করতে হবে।
অ্যাপের আইডিয়াটি এসেছে গ্রাৎস ইউনিভার্সিটি হসপিটালের চিকিৎসক মিশায়েল ট্রিপোল্টের মাথা থেকে। বুদ্ধিমত্তাযুক্ত প্রযুক্তি এবং স্টার ট্র্যাকের ভক্ত মিশায়েল ট্রিপোল্ট বলেন, স্টার ট্র্যাকে ট্রাইকর্ডার নামে একটা ডিভাইস ছিল যা সব স্ক্যান করতে পারতো এবং রোগীর কী হয়েছে জানাতো। ওটা অনেকটা জাদুর মেশিনের মতো ছিল, যা সব চিকিৎসকই পেতে চাইতো। তারপর স্মার্টফোন এলো এবং সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ, যা আগেভাগে ত্বকের টিউমার শনাক্তে সক্ষম।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ছবি, শব্দ এবং লেখা ব্যবহার করে মানুষের শিক্ষা এবং ভাবনা অনুকরণ করে। এই ক্ষেত্রে এক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ কী ভাববেন সেটা যাচাই করা হয়। কয়েক হাজার ছবি দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
জার্মানির শ্যারিটের স্কিন টিউমার সেন্টারের প্রধান থমাস আইগেন্টলা বলেন, এই ধরনের অ্যাপ প্রাথমিক মূল্যায়ন করতে পারে। এটি যদি পরামর্শ দেয়, তাহলে আপনার সত্যিই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া উচিত। এটা প্রায়ই ভুয়া সতর্কতাও জারি করে, কারণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে সামান্য ক্ষতও মারাত্মক মনে হতে পারে। তবে গত কয়েকবছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থার নির্ভুলতার হার উল্লেখযোগ্যহারে বেড়েছে।
মার্কিন এক গবেষণায় দেখা গেছে সাধারণ চিকিৎসকরা ২৪ থেকে ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে ম্যালিগন্যান্ট মেলানোমা শনাক্ত করতে পারে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের ক্ষেত্রে সাফল্যের হার ৭৭ থেকে ৯৬ শতাংশ। আর অ্যাপের অ্যালগরিদমের সাফল্য সবচেয়ে বেশি ৯৩ থেকে ৯৮ শতাংশ।
সূত্র: ডয়েচ ভেলে







