ভারতের মিজোরাম রাজ্যকে দেশটির সবচেয়ে সুখী রাজ্য হিসেবে ঘোষণা করেছেন রাজেস কে পিলানিয়া। গুরুগ্রামের ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের এই অধ্যাপক এক সমীক্ষা শেষে এই ঘোষণা দিয়েছেন।
বুধবার (১৯ এপ্রিল) ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।
অধ্যাপকের প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশটির দ্বিতীয় রাজ্য হিসেবে মিজোরামে সাক্ষরতা হার শতভাগ। সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতেও রাজ্যটিতে শিক্ষার্থীদের গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ছয়টি প্যারামিটারের উপর ভিত্তি করে রাজ্যটিকে সুখী তালিকার শীর্ষে রাখা হয়েছে। পারিবারিক সম্পর্ক, কাজের সাথে সম্পর্কিত সমস্যা, সামাজিক সমস্যা এবং পরোপকারী, ধর্ম, কোভিড-১৯ এর প্রভাব এবং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে লক্ষ্য করা হয়েছে।
রিপোর্টটিতে মিজোরামের আইজলের গভর্নমেন্ট মিজো হাই স্কুলের এক ছাত্রের বিষয়ে আলোচনা এসেছে। ওই শিক্ষার্থীর বাবা তার ছোটবেলায় পরিবার ত্যাগ করেন। যার ফলে, তাকে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। তবে তিনি কখনও আশা হারাননি। নিজের লেখাপড়া চালিয়ে গেছেন, এমনিতেই তিনি বেশ মেধাবীও বটে। তিনি নিজেকে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বা সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করছেন বলেও রিপোর্টটিতে জানানো হয়।
এছাড়াও একই স্কুলের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী ন্যাশনাল ডিফেন্স একাডেমিতে যোগদানের স্বপ্ন দেখেন। তার বাবা একটি দুধের কারখানায় কাজ করেন আর মা একজন গৃহকর্মী হওয়া সত্ত্বেও তিনি তার স্কুলের জন্য স্বপ্ন বাস্তবায়নে আশাবাদী।
মিজোরামের এবেন-এজার বোর্ডিং স্কুলের শিক্ষিকা সিস্টার লালরিনমাউই বলেন, এখানে সামাজিক কাঠামো তার যুবকদের সুখী রাখতে অবদান রাখে। আমরা একটি বর্ণহীন সমাজ গঠনে বদ্ধপরিকর। এছাড়াও, লেখাপড়ার জন্য পিতা-মাতা চাপ সৃষ্টি করেন না।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে মিজো সম্প্রদায়ের প্রতিটি শিশু, পুরুষ কিংবা নারী উভয়ে তাড়াতাড়ি উপার্জন শুরু করে।








