এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ভারতীয় পত্রিকা “এই সময়”-এ প্রকাশিত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাক্ষাৎকারটি ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
মঙ্গলবার ২৩ সেপ্টেম্বর বিএনপি’র মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি জানান।
এতে বলা হয়, বিএনপি মহাসচিবকে নিয়ে “এই সময়” এর সাক্ষাৎকারটি ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, যা বিভ্রান্তিকর। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ভারতের দৈনিক পত্রিকা “এই সময়”-এ প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে যে বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে, তা তিনি বলেননি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলেও, এটি ভুল ও বিভ্রান্তিকর। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একজন সিনিয়র রাজনৈতিক নেতা হিসেবে কখনও কোনো অবান্তর কথা বলেন না।ে
এতে আরও বলা হয়, তিনি এই ধরনের সংবাদ প্রকাশের নিন্দা জানান এবং জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, এই বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য।
ভারতের ‘এই সময়’ পত্রিকায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য ছিল নিম্নরুপ-
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন হবে এবং এতে সব রাজনৈতিক দল—এমনকি আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিও অংশগ্রহণ করুক, বিএনপি তাই চায়।
ঢাকার গুলশানে দলের দপ্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দৈনিক এই সময়কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আওয়ামি লীগ বা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) অথবা ওয়ার্কার্স পার্টির মতো তাদের শরিকেরা জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কি না এমন একটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি একথা জানান।
ওই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা বলেছি আওয়ামী লীগ ও তাদের শরিকেরা সবাই, এমনকি জাতীয় পার্টিও নির্বাচনে অংশ নিক। একটা সুষ্ঠু ও অবাধ ভোট হোক। এজন্য অনেকে আমাকে ভারতের এজেন্ট, আওয়ামীর দালাল বলে গালাগাল দিচ্ছে। কিন্তু শেখ হাসিনার অপকর্ম আমরাও কেন করব? হাসিনা ১৫ বছর প্রতিপক্ষকে ভোটে দাঁড়াতেই দেননি। তার শাস্তি তিনি পেয়েছেন। একই কাজ করলে আমরাও তো প্রতিফল পাব। তবে মানুষ এত রক্ত দেখেছে, এত প্রাণহানি—তাদের মধ্যে আওয়ামী-বিরোধিতা রয়েছে।
ফখরুল বলেন, জামায়াত প্রচলিত ভোটপদ্ধতিতেই নির্বাচনে অংশ নেবে এবং এনসিপি এখন আর গুরুত্বপূর্ণ কোনো শক্তি নয়। বিএনপি জামায়াতকে আর প্রভাব বিস্তার করতে দেবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সেনাপ্রধান নির্বাচনের বিষয়ে আন্তরিক এবং ফেব্রুয়ারিতেই ভোট আয়োজনের পক্ষে আছেন বলে জানান ফখরুল। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীও চায় নির্বাচনের পর স্বাভাবিক দায়িত্বে ফিরে যেতে।
ভারতের প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব থাকবেই। তবে দিল্লি কেবল আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে নীতি নির্ধারণ করায় ভুল করেছে। বিএনপি অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক দল হিসেবে ভারতের সঙ্গে সবার জন্য খোলা যোগাযোগ চায়।







