ভালোবাসা দিবসে প্রচারিত নাটক ‘বুক পকেটের গল্প’-তে অনবদ্য অভিনয় করে আলোচনায় মীর রাব্বি। এতে মাহফুজ চরিত্র দিয়ে রীতিমত বাজিমাৎ করেছেন তিনি। দর্শকও রায় দিচ্ছেন, ভালোবাসা দিবসের প্রচারিত শত শত নাটক ও অভিনয় শিল্পীদের ভিড়ে মীর রাব্বি আলাদা করে জায়গা নিয়েছেন তাদের মনে!
প্রচারে পর সাড়া ফেলা এ নাটকের কাজের অভিজ্ঞতা, দর্শক প্রতিক্রিয়া ও নিজের ক্যারিয়ার সম্পর্কে চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে সাবলীল আলাপ করলেন রাব্বি।
সাধারণ দর্শক থেকে সমালোচকরা প্রত্যেকে আপনার অভিনয়ের প্রশংসা করছেন। ঠিক কেমন প্রতিক্রিয়া পাচ্ছেন?
দর্শকরা যে প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন এতে আমি আপ্লুত। এতো বেশি ফিডব্যাক আসবে আশা করিনি। কাজটির জন্য পরিচালক এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের উপর বিশ্বাস ছিল। আমরা একেবারে শেষ পর্যন্ত ভালো করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলাম। আমার কাছে মনে হচ্ছে, বর্তমানে এ ধরনের গল্প বলার কিছুটা অভাব ছিল। দর্শকদের মন্তব্য দেখে যা বুঝলাম, অনেকে নতুন করে আবার নাটক দেখায় ফিরেছেন কিংবা যারা ইউটিউব নাটকে তেমন প্রত্যাশা রাখেন না তারাও নতুন করে প্রত্যাশার কথা বলছেন। তাই ‘বুক পকেটের গল্প’ ওয়াইড রেঞ্জ অব পিপলকে এনগেজড করেছে।
প্রায় প্রতিটি দৃশ্যে কবি ও দার্শনিক টাইপের সংলাপ বলে একই স্কেলে অভিনয় করেছেন। অভিনয় করতে বাড়তি সচেতনতা ছিলো কি?
জাহিদ প্রীতম এতো সুন্দর করে সংলাপ লিখেছেন সেটা যেন সুবিচার করতে পারি এবং সেগুলো যেন জীবনের অংশ মনে হয় একইসাথে কোনোভাবে আরোপিত মনে না হয় এটা বেশি খেয়াল রাখতে হয়েছিল। তাছাড়া অন-ডিউটি অবস্থায় আমার ক্যারেক্টারের অসুস্থতা অংশটুকু, কিংবা অপিরিচিত কারো সঙ্গে অথবা বন্ধুর সঙ্গে ঘুরে ফিরে চলে আসে। অভিনয়ে এই বিষয়টি যেন পুরোপুরি জীবন্ত মনে হয় এদিকটাও সচেতন ছিলাম।
অসুস্থ ক্যারেক্টার প্লে করতে কতবার কাশি দিয়েছেন মনে পড়ে?
অনেকবার, অনেকবার (হাসি…)। প্রতিবার কাশি দেয়ার সময় মানসিক ও শারীরিকভাবে সেটা বিশ্বাসযোগ্য করতে হয়েছে। তাই অনেকবার করেছি।
পরিচালক বলছিলেন, তিনি পপুলার ফেস চাননি। ব্র্যান্ডিং বা বিজনেস না ভেবে ভালো কাজের জন্য চ্যালেঞ্জ নিতে চেয়েছিলেন। প্রযোজক আপনাদের পরিপূর্ণ সাপোর্ট দিয়েছেন। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
অবশ্যই, খুব অ্যাপ্রিসিয়েট করছি। আসলে বাজার ব্যবস্থার উপর অনেককিছু রিয়েক্ট করে। এর সঙ্গে শিল্প ও অগ্রগতি প্রভাবিত হতে থাকে। এই সময়ে মোহাম্মদ কামরুজ্জামান ভাই এবং কেএস এন্টারটেনমেন্ট যে এমন গল্প সিলেক্ট করে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে কাজটি করতে সহযোগিতা করেছেন। আমিসহ টিমের সকলের উপর বিশ্বাস রেখেছেন এতে করে আমরাও ঠিকভাবে কাজটির চেষ্টা করেছি। যাবতীয় ভালো কাজের প্রাইমারি বিগেনিং থাকে। আমার মনে হয়, কামরুজ্জামান ভাই সেভাবেই শুরু করেছেন। নিশ্চয়ই আগামীতে আমরা আরও ভালো এবং ব্যতিক্রমি সব কাজ দেখতে পাবো।
তাকদীর (হইচই), ভালো থেকো ফুল (হইচই), তীরন্দাজ (বায়স্কোপ), ভ্রম (বায়োস্কপ), ইন্টার্নশিপ (চরকি), বুক পকেটের গল্পের মতো নন্দিত সব কাজ করেছেন। কিন্তু আপনার প্রতিটি কাজে গ্যাপ! আরেকটু বেশি কাজ করা উচিত বলে মনে করেন?
অবশ্যই ব্যস্ত হতে চাই। তবে আমাকে নিয়ে কাজ করতে চাইতে হবে। এর সঙ্গে বাজার ব্যবস্থা, ভিউসের ব্যাপার যুক্ত আছে। আবার আমাকে কোনো কাজে নিতে চাইলে আমি কাজটি করার তাড়না অনুভব করছি কিনা সেটাও দেখতে হবে। সঙ্গে গল্প, চরিত্র পছন্দের ব্যাপার থাকে। আমিও চাই ভালো ভালো কাজ করি, কিন্তু সবকিছু ব্যাটে-বলে মিলে যাওয়া দুরুহ হয়। রিসেন্ট শাহরিয়ার পলকের পরিচালনায় ওয়েব ফিল্ম ‘বকুলের বুকে রক্ত করবী’ শুটিং শেষ করেছি। আমার সঙ্গে প্রিয়ন্তি উর্বী আছেন। কাজটি ভালো প্রডাকশন হওয়ার সম্ভাবনা আছে। ভালোবাসার নৃশংসতা নিয়ে ‘নিষিদ্ধ’ নামে আরেকটি শর্টফিল্ম হয়তো শিগগির টাইগার মিডিয়াতে আসবে। এছাড়া আমার ‘প্যাসেঞ্জার’ নামে আরেকটি শর্টফিল্ম মুক্তির অপেক্ষায় আছে। নতুন কিছু শর্টফিল্ম ও সিনেমার আলাপ আগাচ্ছে। হয়তো শিগগির শুটিংয়ে যেতে পারি। আসলে প্রতিদিন শুটিং করছি তা না, তবে আমার ব্যস্ততা আছে।
কাজ করলে এতো ভিউস দিতে হবে এমন কোনো বিষয় চাপিয়ে দেয়া হয় বা মানসিক চাপ থাকে? আমি কখনই ভিউ যুদ্ধে ছিলাম না। এর আগে যেসব কাজ করেছি সেগুলো ওটিটিতে যাওয়ার পর ইউটিউবে এসেছে। কিন্তু এবারই প্রথম ইউটিউবের জন্য কাজ (বুক পকেটের গল্প) করলাম। তাই ভিউ যুদ্ধ বা জার্নিতে টিকবো কিনা বা আগাতে পারবো কিনা সেটা ভাবার সময় পাইনি। পুরো কনটেন্টে আমার ক্যারেক্টারে যতটুকু করার জায়গা আমি ফ্রেশ মাইন্ডে সেটা করার চেষ্টা করি।
আপনার কণ্ঠ কি গড গিফ্টেড নাকি পরিচর্যার ফসল! কণ্ঠের পরিচর্যা করতে হয়?
একটু তো ন্যাচারালি বাকিটা অ্যাজ ইউ সেইড গড গিফটেড! পরিচর্যা বলতে ছোটবেলা কবিতা পড়তাম, ওয়ার্কশপ কিংবা থিয়েটার করতাম। এখন বিজ্ঞাপনে ভয়েস দেই। এই কাজের জন্য যতটুকু যা করতে হয় এটাই পরিচর্যা। এর বাইরে কিছু করিনা।








