মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী-সমর্থিত রাজনৈতিক দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) দেশটির তিন ধাপে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বিপুল জয় পেয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়েছে, গৃহযুদ্ধ ও কঠোর দমন–পীড়নের মধ্যে কঠোর নিয়ন্ত্রণে এই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
গত সপ্তাহান্তে তৃতীয় ও শেষ ধাপের ভোট সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া নির্বাচন কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘটে। সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকার উৎখাতের চার বছরেরও বেশি সময় পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, তিন ধাপের ভোটেই প্রভাব বিস্তার করে ইউএসডিপি সংসদের দুই কক্ষেই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। নিম্নকক্ষে মোট ২৬৩টি আসনের মধ্যে দলটি ২৩২টি এবং উচ্চকক্ষে ঘোষিত ১৫৭টি আসনের মধ্যে ১০৯টি আসনে জয় পেয়েছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার প্রকাশিত ফলাফলে এসব তথ্য জানানো হয়।
সামরিক সরকারের মুখপাত্র জাও মিন তুন জানান, আগামী মার্চে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য সংসদের অধিবেশন বসতে পারে এবং এপ্রিল থেকে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে। সামরিকপন্থী ইলেভেন মিডিয়া গ্রুপ এ তথ্য জানিয়েছে।
২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমার রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলন দমনের পর দেশজুড়ে সশস্ত্র বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, এ সহিংসতায় হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান জানিয়েছে, তারা মিয়ানমারের এই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সমর্থন করবে না। মানবাধিকার সংগঠন ও কয়েকটি পশ্চিমা দেশও নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর জানায়, রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে নাগরিকত্ব না দেওয়ায় তারা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে থাকায় ভোট দিতে পারেননি।
নির্বাচনকালীন সময়ে বিমান হামলায় অন্তত ১৭০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং প্রায় ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জাতিসংঘ জানায়। জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেন, “অনেকে কেবল ভয়ের কারণেই ভোট দিয়েছেন অথবা ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন।”
তবে সামরিক শাসকরা দাবি করছে, নির্বাচন ছিল অবাধ ও সুষ্ঠু এবং জনগণের সমর্থনেই এটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সামরিক সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ মূল্যায়ন করবে।
এদিকে অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসিসহ (এনএলডি) বহু রাজনৈতিক দল ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আরও কয়েকটি দল নির্বাচনে অংশ নেয়নি। সমালোচকদের মতে, এই নির্বাচন মূলত সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়ার কৌশল।
মিয়ানমারের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সামরিক বাহিনীর জন্য সংসদের ২৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকায় বেসামরিক সরকার গঠিত হলেও সেনাবাহিনীর প্রভাব বজায় থাকবে।







