মারা গেছেন টারান্টিনোর ‘প্রিয় অভিনেতা’ ম্যাডসেন

ম্যাডসেনের তিনটি ছবি, বিভিন্ন সিনেমার চরিত্রে, যা তার অভিনয় দক্ষতা প্রদর্শন করে।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ
বিশ্বখ্যাত হলিউড নির্মাতা কোয়েন্টিন টারান্টিনোর ‘প্রিয় অভিনেতা’ হিসেবে খ্যাত ম্যাডসেন আর নেই। সিএনএন এর প্রতিবেদন অনুযায়ী হলিউড অভিনেতা মাইকেল ম্যাডসেন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।
ম্যাডসেন তার ক্যারিয়ারে রিজার্ভয়্যার ডগস, কিল বিল, দ্য হেটফুল এইট এবং ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন হলিউড এর মতো জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।
ম্যাডসেনের জনসংযোগ কর্মকর্তা লিজ রদ্রিগেজ সিএনএন-কে জানান, বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সকালে ক্যালিফোর্নিয়ার মালিবুতে নিজ বাড়িতে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে কোনো অপরাধমূলক উদ্দেশ্য নেই।
১৯৮৩ সালে একটি সিরিজে ছোট চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করলেও ১৯৯১ সালে ‘থেলমা এন্ড লুইস’ এ সুসান সার্যান্ডনের প্রেমিক চরিত্র ‘জিমি’ হিসেবে নজর কাড়েন ম্যাডসেন। পরের বছরই টারান্টিনোর রিজার্ভয়্যার ডগস-এ নির্মম ‘মি. ব্লন্ডে’র চরিত্রে অভিনয় করে বক্স অফিসে ও সমালোচকদের দৃষ্টিতে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেন।
এরপর স্পেসিস, ডনি ব্রাস্কো, সিন সিটি এবং ডাই অ্যানাদার ডে’র মতো আলোচিত ছবিতে তিনি কাজ করেন। ২০০৩-০৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কিল বিল ভলিউম ১ ও ২-এ বুড বা সাইডউইন্ডার চরিত্রে ম্যাডসেন তার খলনায়ক অভিনয়ের দক্ষতা চূড়ান্তভাবে তুলে ধরেন।
তবে পর্দার বাইরে ম্যাডসেনের জীবন ছিল জটিল। ২০১২ সালে নিজের ছেলের সঙ্গে শারীরিক ঝগড়ার অভিযোগে, ২০১৯ ও ২০২২ সালে ড্রিংক অ্যান্ড ড্রাইভ মামলায়, এবং সর্বশেষ ২০২৩ সালে স্ত্রীর সঙ্গে বিরোধে গ্রেপ্তার হন তিনি।
২০২২ সালে তার পুত্র হাডসন হাওয়াইয়ে আত্মহত্যা করলে ম্যাডসেন মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েন। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “কোনো লক্ষণ বুঝতে পারিনি। এটা দারুণ মর্মান্তিক।”
মৃত্যুকালে তার হাতে থাকা আইএমডিবি রেকর্ড অনুযায়ী ১৮টি সিনেমা ছিল নির্মাণাধীন। এমনকি তার বই “টিয়ারস ফর মাই ফাদার: আউট’ল থটস এন্ড পয়েমস’ প্রকাশের প্রস্তুতিও চলছিল। তার এমন বিদায়ে শোকার্ত পুরো হলিউড! সিএনএন







