নতুন ইতিহাস গড়তে চলেছে মেক্সিকো। এবারই প্রথমবার তারা একজন নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছেন। গতকাল ২ জুন সেখানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর তাতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন ফ্রন্টরানার ক্লদিয়া শিনবাউম।
সোমবার (৩ জুন) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার অনুষ্ঠিত হওয়া মেক্সিকোর জাতীয় নির্বাচনের এক্সিট পোল বলছে, ঐতিহাসিক জয়ে মেক্সিকোর প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন ক্লদিয়া শিনবাউম।
বিশেষজ্ঞদের মত নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্লদিয়া শিনবাউমের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবসায়ী ডানপন্থি সোচিতল গালভেজকে পরাজিত করে অন্তত ৫৬ শতাংশ ভোটে জয়ী হয়েছেন ৬১ বছর বয়সী ক্লদিয়া। যিনি একজন মেক্সিকান রাজনীতিবিদ, বিজ্ঞানী এবং শিক্ষাবিদও বটে।
এবারের নির্বাচনে দেশটিতে দু’জন শীর্ষস্থানীয় প্রার্থীর দু’জনেই নারী ছিলেন। একজন বামপন্থি মোরেনা পার্টির ড. ক্লাউডিয়া শেইনবাম এবং অন্যজন ডানপন্থি সোচিতল গালভেজ।
তবে ক্লদিয়া শিনবাউমের মোরেনা পার্টি ইতোমধ্যেই নিজেদের বিজয়ী বলে দাবি করছে। আর গালভেজ তার সমর্থকদের আনুষ্ঠানিক ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানান।
এ নির্বাচনে ভোটাররা মেক্সিকোর কংগ্রেসের সব সদস্যদের এবং আটটি রাজ্যের গভর্নরদেরও নির্বাচিত করার কথা। পাশাপাশি এদিনের ভোটে রাজধানী মেক্সিকো সিটির স্থানীয় সরকারও নির্বাচিত হয়। এই নির্বাচনের প্রচারণা চলাকালে একের পর এক সহিংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার ঘটনায় মেক্সিকোজুড়ে ২০ জনেরও বেশি স্থানীয় প্রার্থী নিহত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, ১৯২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নারীরা ভোটাধিকার অর্জন করার পর মেক্সিকোতেও নারীরা ভোটদানের অধিকার লাভ করে। ১৮২১ সালে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে মেক্সিকো স্বাধীনতা লাভ করলেও নারীদের সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করার অধিকার ছিল না। সে জায়গায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ ছিল কুয়াশাচ্ছন্ন।
প্রায় ৭০ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে মেক্সিকানদের মনে। দেশটির ইতিহাসের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন ক্লদিয়া শিনবাউম।







