একসময় ইউরোপ জুড়ে ছিল মেসি-রোনালদো দ্বৈরথ। বর্তমানে দুজনেই খেলছেন ইউরোপের বাইরে। যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ক্লাব ইন্টার মিয়ামিতে খেলছেন মেসি আর সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল নাসেরে রোনালদো। প্রীতি ম্যাচ ছাড়া দুই কিংবদন্তির মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা নেই এখন আর। তবে এখনও একসঙ্গে উচ্চারিত হয় মেসি ও রোনালদোর নাম। সম্প্রতি মাঠে দুই মহাতারকার আচরণ নিয়ে মন্তব্য করেছেন হন্ডুরাসের রেফারি সাইদ মার্টিনেজ। বলেছেন, ‘মেসি খেলাতেই বেশি মনোযোগী, আর রোনালদো কাউকে অসম্মান না করলেও তর্ক করে।’
কাতার বিশ্বকাপসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে রেফারির দায়িত্ব পালন করেছেন সাইদ মার্টিনেজ। মেসি ও রোনালদোর খেলা ম্যাচ পরিচালনারও অভিজ্ঞতা আছে তার। ফলে খুব কাছ থেকেই দুই কিংবদন্তিকে পরখ করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। স্পেনের একটি সংবাদ মাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন দুজনের মাঠে করা আচরণ নিয়ে। বলেছেন, ‘তারা দুজন সম্পূর্ণ আলাদা ব্যক্তিত্ব। তবে দুজনই দুর্দান্ত খেলোয়াড়। আমি মনে করি না তারা একজন আরেকজনের চেয়ে সেরা।’
শ্রেষ্ঠত্বের মাপে দুজনকে আলাদা না করলেও মাঠের আচরণে দুজনকেই ভিন্নভাবে দেখেছেন হন্ডুরাসের এই রেফারি। বলেছেন, ‘মেসির বিপক্ষে ম্যাচ পরিচালনা করা আরামের। তিনি এমন একজন, যিনি বল নিয়ে খেলেন। অন্য যেকোনো বিষয়ের চেয়ে খেলাতেই বেশি মনোযোগী তিনি। অন্যদিকে রোনালদো কাউকে অসম্মান না করলেও তার মধ্যে তর্ক করার প্রবণতা বেশি।’
‘তাদের ম্যাচ পরিচালনা করা নিঃসন্দেহে একটি বিশেষ অর্জন, যে সুযোগ যে কেউ পেতে চাইবে। দুজনকে ফ্রি কিক থেকে গোল করতে দেখা এমন কিছু, যা আমি কখনো ভুলতে পারব না।’

মেসির সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে মার্টিনেজ বলেছেন, ‘মেসির সঙ্গে ম্যাচের আগেই আমরা করমর্দন করেছিলাম। আমি তাকে স্বাগত জানাই এবং তিনি আমাকে ধন্যবাদ দেন। আমার এটাও মনে আছে, খেলা শেষে যখন সবাই তার নাম উচ্চারণ করছিল, তিনি তখন আমার সঙ্গে হাত মেলাতে আসেন, যা আমি সব সময় মনে রাখব।’
রোনালদোর সঙ্গে মার্টিনেজের অভিজ্ঞতা খানিকটা উত্তাপের। বলেছেন, ‘ক্রিস্টিয়ানোর অভিজ্ঞতা হচ্ছে, তিনি আমার কাছে অভিযোগ করেছেন, আমার মুখোমুখি হয়েছেন। কারণ, আমি তার দুটি গোল বাতিল করেছিলাম। এমনকি সে ভিএআরকেও বিশ্বাস করেনি। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর আগে আমি তাকে ডেকে বলেছিলাম, সে যেভাবে আমার কাছে এসেছিল তা আমি পছন্দ করিনি। তিনি তার ভুল স্বীকার করেছেন এবং আমার সঙ্গে একমত হয়েছেন। এরপর তিনি খেলায় মনোযোগ দেন এবং ফ্রি কিক থেকে অসাধারণ একটি গোল করে দলকে জিতিয়ে দেন।’







