ফুটবলে যে বয়সে বেশিরভাগ কিংবদন্তিই অবসরের পথে হাঁটেন, সেই বয়সে লিওনেল মেসি এখনও বিশ্বকাপের মঞ্চে পার্থক্য গড়ে দিচ্ছেন। একের পর এক রেকর্ড ভাঙার পরও যেন থামছেন না আর্জেন্টাইন মহাতারকা। প্রশ্ন এখন একটাই, কবে থামবেন মেসি?
সময় যেন লিওনেল মেসির জন্য আলাদা নিয়মে চলে। ৩৯ বছর বয়সেও মাঠে তার দৌঁড়, ড্রিবল, পাস আর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ দেখে বোঝার উপায় নেই, তিনি আছেন ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে।
ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসি শুধু খেলছেনই না, নেতৃত্বও দিচ্ছেন সামনে থেকে। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে তার অসাধারণ নৈপুণ্য টানা দ্বিতীয়বারের মতো আর্জেন্টিনাকে তুলে এনেছে বিশ্বকাপের ফাইনালে। চলতি আসরে আট গোল আর চার এসিস্ট করে গোল্ডেন বুট জয়ের দৌঁড়ে সবার উপরে আছেন এলএম টেন।
শেষ চারটি বিশ্বকাপের মধ্যে তিনবার ফাইনাল খেলেছেন মেসি। ২০১৪ সালে রানার্সআপ, ২০২২ সালে চ্যাম্পিয়ন, আর এবারও ফাইনালের মঞ্চে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এমন ধারাবাহিকতা খুব কম খেলোয়াড়ই দেখাতে পেরেছেন। তার ব্যক্তিগত অর্জনও ঈর্ষণীয়। বিশ্বকাপে দুবার জিতেছেন গোল্ডেন বল। যা অন্যকোন ফুটবলারের নেই। চলতি আসরেও রয়েছে গোল্ডেন বল জয়ের সম্ভাবনা।
ক্লাব ফুটবলে আটটি ব্যালন ডি’অর, অসংখ্য লিগ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা, কোপা আমেরিকা, ফিনালিস্সিমা আর বিশ্বকাপ- প্রায় সব বড় ট্রফিই জিতে নিয়েছেন আর্জেন্টাইন ক্ষুদে জাদুকর। এতো অর্জনের পর ফুটবল বিশ্বের বড় একটি অংশ মেসিকে স্বীকৃতি দিয়েছে গোট বা গ্রেটেস্ট অব অল টাইম হিসেবে।
গল্পের শেষ হয়নি এখনও। যদি এবারও আর্জেন্টিনার হাতে বিশ্বকাপ তুলে দিতে পারেন মেসি, তাহলে তিনি হবেন ইতিহাসের প্রথম অধিনায়ক, যিনি দুবার বিশ্বকাপ জিতবেন। সংখ্যা, শিরোপা কিংবা রেকর্ড সবকিছুর ঊর্ধ্বে মেসির সবচেয়ে বড় পরিচয় তার ধারাবাহিকতা। বয়সকে হার মানিয়ে, প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করে তিনি যেন লিখেই চলেছেন নতুন ইতিহাস।







