শুভ বড়দিন উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন করতে এরইমধ্যে সব প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রত্যেক গির্জায় স্থায়ীভাবে পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি পুলিশী টহল বৃদ্ধিসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন ও গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
ডিএমপি বিশ্বাস করে পুলিশের নেওয়া পদক্ষেপের পাশাপাশি সবস্তরে সচেতনতাবোধ তৈরি করা গেলে উৎসবমুখর এবং নিরাপদ পরিবেশে শুভ বড়দিন উদযাপন হবে। পুলিশ ও বড়দিন উদযাপন কমিটির যৌথ উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার” এই বাণীকে আরও সমুন্নত করা সম্ভব হবে।
সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের সই করা এক বার্তায় এসব নিরাপত্তা নির্দেশনাসমূহ মেনে চলার অনুরোধ করা হয়।
নির্দেশনাসমূহ
প্রতিটি গির্জায় রাত্রিকালীন ভিডিও ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা। প্রতিটি গির্জার জন্য নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ এবং স্বেচ্ছাসেবকদের আলাদা পোশাক, দৃশ্যমান পরিচয়পত্র ও আর্মডব্যান্ড নির্ধারণ করে দেয়া। স্বেচ্ছাসেবকদের নামের তালিকা স্থানীয় থানায় দিতে হবে ও থানার অফিসারের উপস্থিতিতে স্বেচ্ছাসেবকদের ব্রিফিং করার ব্যবস্থা করা। গির্জায় দর্শনার্থীদের ব্যাগ/পোটলা ইত্যাদি নিয়ে প্রবেশ না করার জন্য অনুরোধ করা। তাছাড়া গির্জা এলাকায় সন্দেহজনক কোন ব্যাগ/পোটলা পরে থাকতে দেখলে বা দৃষ্টিগোচর হলে নিয়োজিত আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাৎক্ষণিক জানানো।
আর্চওয়ে গেট স্থাপন এবং মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করে তল্লাশীর ব্যবস্থা করা। প্রতিটি গীর্জায় অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র স্থাপন এবং অগ্নি দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। আলোক সজ্জার কাজে গুনগতমান সম্পন্ন বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার করা। আনন্দ উৎসবে মাদকের ব্যবহার, ফানুস উড়ানো ও আতশবাজি করা থেকে বিরত থাকা। প্রতিটি গির্জা ও অনুষ্ঠান এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা এবং বিকল্প আলোর (জেনারেটর) ব্যবস্থা রাখা। প্রতিটি গির্জার জন্য পরিদর্শন রেজিস্টার প্রস্তুত এবং রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা। আবাসিক এলাকায় বাড়ীর ছাদ, রেস্টুরেন্ট ও হোটেলে ডিজে পার্টি এবং উচ্চ শব্দে সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা। ব্যক্তিগত পর্যায়ে উৎসব উদযাপনের ক্ষেত্রে প্রতিবেশীর যাতে কোন অসুবিধা না হয় সে বিষয়ে সচেতন থাকা।
স্থানীয় কাউন্সিলর, গণমান্য ব্যক্তি ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা কমিটি গঠন করা এবং তাদের নাম ও মোবাইল নম্বর সম্বলিত ব্যানার দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা। কোন দুর্ঘটনা বা অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা তৈরি হলে অতি দ্রুত পুলিশকে জানানো এবং জরুরী প্রয়োজনে গীর্জা কমিটির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট থানার ফোকাল পয়েন্ট অথবা ৯৯৯ এর সেবা গ্রহণ করা অথবা ম্যাসেজ টু কমিশনার এর জরুরী নাম্বার ০১৩২০-২০২০২০ ও ০১৩২০-১০১০১০ এসএমএস করা।







