এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে। ফলাফল পেতে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সদস্যসচিব অধ্যাপক রশিদুল আলম।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভোট গণনা করা হবে। তাই ফলাফল পেতে আগামীকাল সকাল বা দুপুর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।’
নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করেছে প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের চারটি প্যানেল। দ্রুত সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ায় পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন ওই চার প্যানেলের প্রার্থীরা।
ভোট কারচুপির অভিযোগে বিকেলের দিকে ভোট বর্জন করে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল ও বামপন্থীদের একটি প্যানেল ‘সংশপ্তক’।
সব মিলিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত। ক্যাম্পাস জুড়ে বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সপোর্ট চত্বরে চারটি প্যানেলের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেন শরণ এহসান। এতে সংহতি জানায় ছাত্র ইউনিয়ন (অদ্রি-অর্ক), সাংস্কৃতিক জোট ও ইন্ডেজেনাস স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন সমর্থিত ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ প্যানেল, ছাত্র ইউনিয়ন (ইমন-তানজিম) ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ‘সংশপ্তক পর্ষদ’, স্বতন্ত্র শিক্ষার্থীদের প্যানেল ‘স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পরিষদ’ এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী) প্যানেল।
এরআগে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে পৃথক ২১টি কেন্দ্রে চলে ভোট গ্রহণ।
প্রায় ৩৩ বছর পর হওয়া জাকসু নির্বাচনের দিনটি কাটলো প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্য দিয়ে। ভোট গ্রহণ শুরুর ৬ ঘণ্টা পর সংবাদ সম্মেলন করে বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রদলের প্যানেল। আর পোলিং এজেন্টেসহ কয়েকটি বিষয়ে অসঙ্গতি পাওয়ার অভিযোগ তুলেছে ছাত্রশিবিরের প্যানেল।
সমন্বিতভাবে ওঠা বাকি অভিযোগগুলোর মধ্যে আছে নির্বাচন কমিশনের প্রতি ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ) প্যানেলের অনাস্থা। তাদের অভিযোগ, এই নির্বাচন যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে হচ্ছে না। এই অনিয়ম শুরু হয়েছে সম্প্রীতির ঐক্যের ভিপি প্রার্থী অমর্ত রায়ের প্রার্থিতা জোরপূর্বক এবং ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বাতিল করার মধ্য দিয়ে।
নির্বাচনে বিচ্ছিন্নভাবে ওঠা বাকি অভিযোগগুলোর মধ্যে আছে, দেরিতে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়া, ব্রেইল না থাকায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের ভোট অন্যজনের দেওয়ায় বিপত্তি, বিভিন্ন হলে আধা ঘণ্টার মতো ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকা, ভোটারদের সারি থাকার পরও কয়েক ঘণ্টায়ও প্রত্যাশিত সংখ্যক ভোট না পড়া, ভোটদানের পর আঙুলে অমোচনীয় দাগ না দেওয়া।
এ ছাড়া, প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসংগতি, গাফিলতি, স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোটে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের তিন শিক্ষক।
এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ১১ হাজার ৭৪৩। এর মধ্যে ছাত্রী ৫ হাজার ৭২৮ এবং ছাত্র ৬ হাজার ১৫ জন। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৭৭ জন প্রার্থী। ভিপি পদে ৯ জন, সাধারণ সম্পাদক পদে ৮ জন, যুগ্ম সম্পাদক (নারী) পদে ৬ জন এবং যুগ্ম সম্পাদক (পুরুষ) পদে লড়ছেন ১০ জন প্রার্থী। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি আবাসিক হলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে হল সংসদ নির্বাচনও।
প্রতিটি হলে থাকছে ভোটকেন্দ্র—যার মধ্যে ১১টি ছাত্রদের জন্য এবং ১০টি ছাত্রীদের জন্য। ২২৪টি বুথে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করবেন ১৩৪ জন পোলিং অফিসার ও সহকারী। নির্বাচনী কমিশন জানিয়েছে, সব ভোটকেন্দ্র মনিটরিং রুম থেকে নজরদারিতে থাকবে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যাতে না ঘটে, সে জন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।








