অস্ট্রেলিয়া-ভারতের পাঁচ টেস্টের সিরিজে শেষ দুম্যাচে আম্পায়ার আছেন বাংলাদেশের শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত। চতুর্থ টেস্টে তৃতীয় আম্পায়ার আর পঞ্চম টেস্টে মাঠে থাকবেন তিনি। চতুর্থ টেস্টে ভারতের প্রথম ইনিংসে আলোচনায় আসার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও একটি আউট ঘিরে কথার মাঝে পড়েছেন সৈকত।
মেলবোর্ন টেস্টে তৃতীয় আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করা সৈকত সোমবার কঠিন এক সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। যে সিদ্ধান্তটি প্রযুক্তিও নিশ্চিত করতে পারেনি। স্নিকো প্রযুক্তি কট বিহাইন্ড না ধরতে পারলেও ভারত ওপেনার যশস্বী জয়সওয়ালকে আউটের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন শরফুদ্দৌলা।
বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি সিরিজের চতুর্থ টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৪৭৪ রানে থেমেছিল অস্ট্রেলিয়া। ভারত প্রথম ইনিংসে যেতে পারে ৩৬৯ পর্যন্ত। স্বাগতিকরা ১০৫ রানের লিড সঙ্গী করে দ্বিতীয় ইনিংসে নামে, ২৩৪ রানে অলআউট হয়। ভারতের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৪০ রানের। ব্যাটিং ধসে ১৫৫ রানে রোহিত শর্মার দল অলআউট হলে ১৮৪ রানে জিতে যায় অস্ট্রেলিয়া।
ঘটনার সূত্রপাত প্যাট কামিন্সের ৭১তম ওভারে। টেস্ট জিততে অস্ট্রেলিয়ার দরকার তখন ৪ উইকেট। ভারতের ২০০ রান। এমন সময়ে বাউন্সারে ফাইন লেগে খেলতে চেয়েছিলেন জয়সওয়াল। বল জমা পড়ে উইকেটকিপার অ্যালেক্স ক্যারির গ্লাভসে। ক্যাচের আবেদন করে অজিরা। মাঠ আম্পায়ার আউট দেননি। কামিন্স রিভিউ নিলে সিদ্ধান্ত যায় তৃতীয় আম্পায়ার শরফুদ্দৌলার দুয়ারে।
রিভিউ নেয়ার পর রিপ্লেতে দেখা যায় বল ব্যাট ও গ্লাভস ছুঁয়েছে। শরফুদ্দৌলাও সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় জানান, স্পষ্ট করেই দেখতে পেয়েছেন বলের গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। তবে আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য তিনি স্নিকোর সাহায্য চান। তখন বাধে বিপত্তি। বল ব্যাটে লাগার ফলে স্নিকোতে যে লাইনগুলো বড় হয়ে ওঠার কথা, তা দেখা যায়নি। তাতে অবশ্য বাংলাদেশি আম্পায়ারের মন গলেনি। আউটের সিদ্ধান্তই দেন তিনি। তবে এবার পাশে পাচ্ছেন অনেককেই।
এই আউটকে সমর্থন জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং, ‘তারা এটা নিয়ে যা খুশি তাইই বলতে পারে। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে ওটা (বল) তার হাতে লেগেছে। আর আমি তখনই খেয়াল করেছি জয়সওয়াল হাঁটতে শুরু করেছে।’
ধারাভাষ্যকারদেরও অবশ্য পাশে পেয়েছেন শরফুদ্দৌলা। হার্শা ভোগলে ও মার্ক নিকোলাসরা এটাকে সাহসী ও ন্যায্য সিদ্ধান্তই বলেছেন।
এই ম্যাচেই ভারতের প্রথম ইনিংসে ১১৯তম ওভারে বল হাতে আসেন অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। তার বল মোহাম্মদ সিরাজের ব্যাট ছুঁয়ে ক্যাচ বিহাইন্ড হয়েছে কিনা নিশ্চিত ছিলেন না মাঠ আম্পায়ার মাইকেল গফ। সিরাজের ব্যাটে লেগে বল স্মিথের হাতে গেলেও তালুতে জমার আগে বল মাটিতে ড্রপ করেছে কিনা তা নিয়ে ছিল সন্দেহ। রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত জানাতে খুব বেশি সময় নেননি শরফুদ্দৌলা। দুবার রিপ্লে দেখার পর তিনি জানিয়ে দেন আউট নয়।
এমন সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হতে পারেননি কামিন্স। এরপর তিনি মাঠে থাকা আম্পারের কাছে রিভিউ চান। এক সিদ্ধান্তে দুবার রিভিউ হয় না জানিয়ে মাঠের দুই আম্পায়ার গফ ও জোয়েল উইলসন আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন কামিন্সের। আবার ধারাভাষ্য কক্ষে বলা হয়েছে, অন্যকোনো কারণও দেখানো হতে পারে কামিন্সকে। শরফুদ্দৌলার যে সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক উঠেছে।







