অসংখ্য বিজ্ঞাপন, টিভি ফিকশন নির্মাণের পর ২০২২ সালে ‘হাওয়া’ ছবি নির্মাণ করে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন মেজবাউর রহমান সুমন। দেশে-বিদেশে ছবিটি প্রশংসিত ও ব্যবসায়িকভাবে দারুণ সাফল্য পেয়েছিল। প্রায় ৪ বছর বিরতি দিয়ে এই নির্মাতা ‘রইদ’ নিয়ে ফিরছেন আসন্ন ঈদুল আযহায়।
‘রইদ’ মূলত সাধু এবং তার পাগল স্ত্রীর সম্পর্কের এক সরল অথচ গভীর আখ্যান, যা প্রেম ও নীরবতার মাধ্যমে মানব বিবর্তনের সেই চিরন্তন আদিম প্রেমকে তুলে ধরে- এমনটাই বলেছেন নির্মাতা।
সিদ্দিক আহমেদ, মেজবাউর রহমান সুমন, জাহিদ ফারুক এবং শুকর্ণ শাহেদ ধিমানের চিত্রনাট্যে এ ছবির গুরুত্বপূর্ণ দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান এবং নাজিফা তুষি। মুক্তির আগে সোমবার ছবিটির প্রথম গান ‘রইদে আইলা গা জুড়াইতে’ মুক্তি পেতে যাচ্ছে।
তার আগে রবিবার সন্ধ্যায় সুমন তার নিকেতনে অফিসে সংবাদকর্মীদের আলাপকালে কেন এতো বিরতি নিয়ে ছবি বানালেন সেই প্রসঙ্গে বলেন,“প্রথম কারণ আমি তাড়াহুড়ো করে কাজ করতে পারিনা, কিছুটা অলস মনে করতে পারেন। দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, আমার আলাদা পেশা হচ্ছে বিজ্ঞাপন নির্মাতা। শুধু সিনেমা করে আমি সার্ভাইভ করতে পারবো না এবং ওভাবে সার্ভাইভ করতেও চাই না।
মেজবাউর রহমান সুমন বলেন, আমার সিনেমা অনেক বেশি ব্যবসাফল হোক এটা কখনও উদ্দেশ্য থাকে না। আবার সিনেমা জনপ্রিয় হয়েছে এটাও আরাম লাগেনা। আমি সিনেমা বানালে আনন্দ পাই, এজন্য সময় নিয়ে বানাই। দর্শক আমার সিনেমা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা-সমালোচনা করছে এটা দেখলেই আমার ভালো লাগে।
‘রইদ’ প্রসঙ্গে সুমন বলেন, আমরা একটা অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। দিনে দিনে অসহিষ্ণু হয়ে উঠছি। এই অস্থির সময়ে মানুষের মধ্যে নিরবতার অভাব। তাই আমি ‘রইদ’-এ একটি প্রেমের গল্প দেখাচ্ছি। তবে এর মধ্যে মিথলজিক্যাল আসপেক্ট আছে, সেটা আমি ব্যাখ্যা করি নাই, প্রশ্ন করার চেষ্টা করেছি। ভেবেছিলাম রিলিজের ক্ষেত্রে নিরব টাইমে এলে ভালো হতো, কিন্তু সামনে ওয়ার্ল্ডকাপ আছে এজন্য দেরি হয়ে যাবে।
নির্মাতা সুমনের প্রত্যাশা, ‘রইদ’-এর গল্পটি দর্শকদের অনুভূতির গভীরে দাগ কাটবে এবং আসন্ন ঈদুল আজহায় প্রেক্ষাগৃহে তাদের অকৃত্রিম ভালোবাসা অর্জন করতে সক্ষম হবে।
‘রইদ’-এ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করা নাজিফা তুষি বলেন, “হাওয়ার মত এই সিনেমার জার্নিটিও আমার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
দেশের শীর্ষস্থানীয় ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বঙ্গ এবং ফেসকার্ড প্রোডাকশন-এর যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছেটি ‘রইদ’।
বঙ্গ-এর পক্ষ থেকে প্রযোজক মুশফিকুর রহমান বলেন, সুমনের মতো একজন দুর্দান্ত নির্মাতার এই সৃজনশীল যাত্রায় সঙ্গী হতে পেরে বঙ্গ পরিবার গর্বিত। এটি কেবল একটি সিনেমা নয়, বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য একটি নতুন অধ্যায়। আসন্ন ঈদুল আজহায় দেশব্যাপী ‘রইদ’-এর দুর্দান্ত সাফল্য কামনা করছি।







