ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জের বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদীর বিভিন্ন কল-কারখানার বজ্র অবাধে নদীতে ফেলায় দূষণের শিকার হচ্ছে চাঁদপুরের মেঘনা নদী। এতে নির্বিচারে মারা পড়ছে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীর বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব মরা মাছের প্রভাবে দূষিত হচ্ছে পানি, পচা মাছের দুর্গন্ধে নষ্ট হচ্ছে আশেপাশের পরিবেশ। পাশাপাশি ভবিষ্যতে জীবিকা হারানোর ভয়ে স্থানীয়রা জেলেরা। তাই নদী রক্ষায় দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি সকলের।
সরেজমিনে দেখা যায়, শনিবার সকালে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দশানী, ষাটনলসহ কয়েকটি এলাকার মেঘনা নদীতে ভেসে উঠে লাখ লাখ দেশীয় প্রজাতির মাছ। যার মধ্যে ছিল বাইলা, চিংড়ি, চেউয়া, পোয়া, বেলে, এমনি ইলিশের পোনা জাটকা। নদীর তীরে পড়ে থাকা এসব মাছ পচে, গলে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে চারপাশে। এতে পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। আর দুগন্ধের পাশাপাশি কালচে বর্ণ ধারণ করে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে নদীর পানি। এতে শঙ্কিত স্থানীয়রা। গেল কয়েকমাস আগেও একই স্থানে দেখা গেছে এমন চিত্র।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিবছর একবার এমন পরিস্থিতি দেখা গেলেও এবছর মাছ মরার প্রকোপ বেশি। নদী দূষণ রোধ, স্থানীয় মৎস্যজীবীদের জীবিকা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এখনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি সকলের।
জানা যায়, গেল কয়েক মাস আগে একই পরিস্থিতি দেখা দিলে নদীর পানি সংগ্রহ ও ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে পরিবেশ অধিদপ্তর। ইতিমধ্যে পানির গুনাগুন মান পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে হয়েছে। যেখানে পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা ৪.৫ থাকার কথা সেখানে মেঘনার ওই অঞ্চলগুলোতে রয়েছে ২ এর নীচে। কোথাও কোথাও অক্সিজেনের মাত্রা নেমে এসেছে ১ এর নীচে। এতেই মারা যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির এসব মাছ। এমনটাই জানান জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান।
অন্যদিকে নদীর পানি দূষণে এখনই পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে এর প্রকোপ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।







