ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ যখন জীবনের ঝুঁকি এড়াতে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করছে, তখন বাংলাদেশেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আগাম ছুটি পড়েছে। তবে পার্থক্য একটা আছে: ওখানে কারণ মিসাইল-সাইরেন-বোমা; এখানকার কারণ সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট আর বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের হিসাব।
সংঘাতের কেন্দ্রস্থল ইরানে সামরিক উত্তেজনা বাড়ায় বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ইসরায়েলেও সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতায় স্কুল-কলেজ বন্ধ রেখে শিক্ষার্থীদের আপাতত ঘরেই থাকতে বলা হয়েছে। অনলাইনে ক্লাস চলছে কিছু ক্ষেত্রে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশেও শিক্ষা কার্যক্রমে টান পড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানের কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তার কথা ভেবে ক্লাস বন্ধ করেছে বা অনলাইন ক্লাসে চলে গেছে। এর মধ্যে আবার মধ্যপ্রাচ্যের সাতটি দেশে ভারতীয় সিবিএসই বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির কিছু পরীক্ষাও স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে।
এই অস্থিরতার ঢেউ অবশ্য বেশ দূর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি করতে শুরু করেছে, আর বাংলাদেশ যেহেতু জ্বালানি আমদানির ওপর বেশ নির্ভরশীল, তাই আগাম হিসাব-নিকাশ শুরু হয়ে গেছে। ফলাফল: বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছুটির ক্যালেন্ডারে সামান্য ‘সৃজনশীল পরিবর্তন’।
বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, যুদ্ধের গোলা অনেক সময় সীমানা পেরোয় না, কিন্তু তার অর্থনৈতিক প্রতিধ্বনি বেশ দূর পর্যন্ত শোনা যায়। বাংলাদেশের মতো দেশে সেটি কখনো কখনো বিদ্যুতের সুইচ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটির নোটিশ বোর্ডে গিয়ে ধরা দেয়। দিচ্ছেও তা।







