এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
দুর্গাপূজার সঙ্গে পেটপূজা যেন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই সময়ে পোলাও-মাংস থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্বাদের মিষ্টি খাওয়া হয়। এই পূজায় মিষ্টি মুখ করতে পাতে পারেন ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন “ল্যাংচা”।
ল্যাংচা বাঙালির অন্যতম ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি, যা পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান অঞ্চল থেকে উৎপত্তি হলেও এখন বাংলাদেশসহ সমগ্র বাংলা জুড়ে সমান জনপ্রিয়। ময়দা, ছানা বা খোয়া এবং গুড়ো দুধ দিয়ে তৈরি এ মিষ্টি ভাজার পর চিনির সিরায় ডুবিয়ে রাখা হয়, ফলে এটি হয়ে ওঠে রসালো ও সুস্বাদু।
ঐতিহাসিকভাবে ল্যাংচার উৎপত্তি পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায়। বিশেষত শক্তিগড়ের ল্যাংচা ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছে, যা স্থানীয় ঐতিহ্যের অংশে পরিণত হয়েছে। অপরদিকে বাংলাদেশেও ল্যাংচার কদর কম নয়। বিশেষ করে ঝিনাইদহের ল্যাংচা সারা দেশে সমাদৃত।
ল্যাংচার আকার সাধারণত লম্বাটে ও নলাকার, যা গোলাপ জামুন বা পান্তুয়ার থেকে আলাদা। এর রঙ কালচে বাদামী এবং স্বাদে রয়েছে বিশেষত্ব।
শুধু একটি মিষ্টিই নয়, ল্যাংচা অনেক বাঙালির কাছে নস্টালজিয়ার অংশ।
উপকরণ ও প্রস্তুতি
ল্যাংচা তৈরিতে ব্যবহৃত প্রধান উপকরণ হলো ময়দা, ছানা বা পনির, খোয়া/মাওয়া, গুড়ো দুধ এবং চিনি। প্রথমে উপকরণগুলো মিশিয়ে গোল বা লম্বাটে আকার দিয়ে ভাজা হয়। এরপর চিনির সিরায় ডুবিয়ে রাখা হয়, যা এটিকে করে তোলে রসালো ও মুখরোচক।
পশ্চিমবঙ্গের শক্তিগড় থেকে শুরু করে ঝিনাইদহ পর্যন্ত ল্যাংচা এখন বাঙালি রসনাবিলাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ঐতিহ্য, স্বাদ ও স্মৃতির মিশেলে এই মিষ্টি কেবল খাবার নয়, সংস্কৃতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।







