ভোলায় এক প্রসূতির মৃত্যুকে ঘিরে বেসরকারি একটি ক্লিনিকের বিরুদ্ধে গুরুতর চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। ভুল রক্ত দেওয়ার কারণে রোগীর মৃত্যুর দাবি তুলে বিক্ষুব্ধ স্বজনরা ক্লিনিকে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ভোলা শহরের কালিনাথ রায়েরবাজার এলাকায় অবস্থিত বন্ধন ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত প্রসূতির নাম লামিয়া আক্তার (২২)। তিনি ভোলা শহরের আবহাওয়া অফিস রোড এলাকার বাসিন্দা শরিফের স্ত্রী।
স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য লামিয়া আক্তারকে বন্ধন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ মারাত্মক চিকিৎসা অবহেলা করেছে। তাদের দাবি, রোগীর রক্তের গ্রুপ ‘ও পজিটিভ’ হলেও কোনো ব্লাড ক্রস-ম্যাচিং না করেই ‘বি পজিটিভ’ রক্ত দেওয়া হয়। এতে রোগীর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বন্ধন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রসূতির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যার দিকে বিক্ষুব্ধ স্বজনরা ও স্থানীয়রা ক্লিনিকের সামনে জড়ো হন। তারা নানা স্লোগান দেন এবং একপর্যায়ে ক্লিনিকের ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
ভোলা জেলা পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনকে ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত শেষ হলেই স্পষ্ট হবে।







