‘অভিনেতা হবো’- এই জেদের বশেই বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করে ভালো চাকরি পেলেও ঢাকা ছাড়েননি সদ্য প্রয়াত গুণী অভিনেতা ও নাট্যকার মাসুম আজিজ। অথচ মঙ্গলবার বিকেলে তিনি শেষ বারের মতোন রওনা হয়েছেন পাবনার পথে! আর কখনও ফিরবেন না প্রিয় শহর, ঢাকায়!
অভিনেতা মাসুম আজিজের মরদেহ মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের তত্ত্বাবধানে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানান একুশে পদকপ্রাপ্ত এই অভিনেতাকে।
দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সবার শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তার মরদেহ নেয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে। সেখানে তার প্রথম জানাজা শেষে তার মরদেহ নিয়ে পরিবার ও নিকটজনেরা রওনা দেন গ্রামের বাড়ি পাবনার উদ্দেশ্যে।
এদিন বিকেল ৫টায় অভিনেতা মাসুম আজিজের সহধর্মিনী সাবিহা জামান চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান, আমরা এখন ফেরীঘাটে আছি। পাবনায় পৌঁছাতে প্রায় ৭টার মতো বাজবে। এশার নামাজের পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে।
দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করে সাবিহা জামান বলেন, সবাই এতো ভালোবাসা দিয়েছেন, আমরা সবার কাছে কৃতজ্ঞ। তার (মাসুম আজিজ) শান্তি কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করি।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মাসুম আজিজ। গেল বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন একুশে পদক পাওয়া এই অভিনেতা।
এর সপ্তাহখানেক আগে ক্যানসারে আক্রান্ত মাসুম আজিজকে ওই হাসপাতালেই ভর্তি করা হয়। বেশ কয়েক বছর ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। চলতি বছরের শুরুর দিকে তার ফুসফুসে ক্যানসার ধরা পড়ে।
অভিনেতা পরিচয়ের বাইরে মাসুম আজিজ চিত্রনাট্যকার ও নাট্যনির্মাতা হিসেবে পরিচিত। মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে অভিনয়ের খ্যাতি রয়েছে তার। ছাত্রাবস্থায় অভিনয়ে হাতেখড়ি মাসুম আজিজের। আশির দশকের মাঝামাঝিতে তিনি প্রথম টিভি নাটকে অভিনয় করেন। হুমায়ূন আহমেদের ‘উড়ে যায় বকপক্ষী’, সালাউদ্দিন লাভলুর ‘তিন গ্যাদা’সহ অসংখ্য টিভি নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি।
‘ঘানি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য ২০০৬ সালে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে রাইসুল ইসলাম আসাদের সঙ্গে যুগ্মভাবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন মাসুম আজিজ। ‘গহীনে শব্দ’, ‘এই তো প্রেম’, ‘গাড়িওয়ালা’সহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে হয়েছেন প্রশংসিত।
সরকারি অনুদানে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘সনাতন গল্প’ পরিচালনা করেছেন। ছবিটি ২০১৮ সালে মুক্তি পায়। ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এটি প্রশংসিতও হয়েছে। ২০২২ সালে একুশে পদক পেয়েছেন মাসুম আজিজ।








