ঘড়ির কাটা তখন ১২টা ছুঁইছুঁই। হাঁড় কাপানো শীতের তীব্রতা কমে মিরপুরের একাডেমি মাঠে মিষ্টি রোদ। সিলেট স্ট্রাইকার্সের অনুশীলন তখনও শুরু হয়নি। হঠাৎ সেখানে হাজির মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। গেটআপ দেখেই বোঝা যাচ্ছিল সিলেট অধিনায়ক আজ এসেছেন অনুশীলন করতেই। ক্যাপ্টেন ফ্যানটাসটিক মাশরাফীকে পেয়ে পুরো দল হয়ে উঠল চনমনে। সবাই মাশরাফীর সঙ্গে হাত মেলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন।
অধিনায়ক হলেও বয়সের ভার, চোট, রাজনৈতিক ব্যস্ততা-সব মিলিয়ে মাশরাফী অনুশীলনে নিয়মিত নন। আজই প্রথম নিজেকে ঝালিয়ে নিলেন নেটে। বল হাতে নয় ব্যাটে ঝড় তুললেন নেটে।
বিপিএলের উদ্বোধনী দিনেই ম্যাচ খেলেছে সিলেট। বড় স্কোর করার পরও গতবারের ফাইনালিস্ট দলকে হার দিয়ে শুরু হয়েছে দশম আসর। তাতে থোরাই কেয়ার। দলটির অধিনায়ক মাশরাফী বলেই হয়ত ভীতু নয় স্ট্রাইকার্স বাহিনী। অনুশীলনে চিন্তার বিন্দুমাত্র রেশ পাওয়া গেল না। মাশরাফী মাঠে থাকাই যে বড় অনুপ্রেরণা।
অনুশীলন শেষে দলটির মিডলঅর্ডার ব্যাটার জাকির হাসান অকপটেই বললেন সে কথা, ‘আসলে মাশরাফী ভাইয়ের পারফরম্যান্সের থেকে তার মাঠে থাকাটাই বড় উৎসাহব্যাঞ্জক ব্যাপার। কারণ উনি থাকলে অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত সহজ হয়ে যায়। আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে। তো ওটা আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’

মঙ্গলবার দিনের প্রথম ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের মুখোমুখি হবে সিলেট স্ট্রাইকার্স। তার আগে পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী রোববার দুপুর বারোটা থেকে অনুশীলন সেরে নেয় সিলেট। বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটে মাঠে আসেন মাশরাফী। এসেই প্রথমে চলে যান অনুশীলন করতে থাকা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কোচ সালাউদ্দিনের কাছে। সেরে নেন আলাপ চারিতা। এরপর নিজ দলের সবার সঙ্গে করেন মত বিনিময়। পরামর্শ দিতে দেখা সিলেটের দলে থাকা ইংলিশ ক্রিকেটার বেনি হাওয়েলকে।
১২টা বাজলে মাঠে প্রবেশ করেন ফরচুন বরিশালের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ডেভ হোয়াটমোর। বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্কে যারা খোঁজ রাখেন তারা ডেভ হোয়াটমোরকে ভালো করেই চেনেন। মাশরাফী, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল এবং মুশফিকুর রহিমদের জাতীয় দলের প্রথম কোচ ছিলেন তিনি। ২০০৭ বিশ্বকাপে তার অধীনেই টাইগাররা ভারত, সাউথ আফ্রিকার মতো দলকে হারিয়েছিল। তবে সেই অধ্যায় শেষ হয়েছে অনেক আগে, এবার বিপিএলের টানে ছুটে এসেছেন হোয়াটমোর।
ক্রিকেটারদের মধ্যে মাশরাফীর সঙ্গে একটু বেশিই সখ্যতা ছিল হোয়াটমোরের। ম্যাশকে নাকি ‘পাগলা’ বলেই ডাকতেন অস্ট্রেলিয়ার এই কোচ। বাংলাদেশ ছাড়লেও হোয়াটমোরের সঙ্গে ক্রিকেটারদের সখ্যতা এখনও টিকে আছে। শনিবার তার পুরোনো শিষ্য সাকিবের সঙ্গে দেখা হওয়া মাত্রই তিনি বুকে টেনে নিয়েছেন।

রোববার মিরপুরের একাডেমি মাঠে মাশরাফির সঙ্গেও দেখা হয়ে গেল সাবেক কোচের। ম্যাশকে দেখে প্রথমে খানিকটা চমকেও যান হোয়াটমোর। এরপরই বুকে টেনে নেন মাশরাফীকে। খানিকটা গল্পও করেন দুজনে। এরপর দুজেনেই ফিরে যান যার যার কাজে। ম্যাশকে কথা বলতে দেখা যায় দুর্দান্ত ঢাকার কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনেরও সঙ্গে। পরে চলে যান জিমে।
জিম থেকে ফিরে এসে ব্যাট-প্যাড নিয়ে ব্যাটিং অনুশলীনের জন্য প্রস্তুত হন মাশরাফী। অনুশীলনে প্রথম দিকে কিছুটা দেখেশুনেই বোলারদের মোকাবেলা করেন তিনি। পরে খেলেন বড় শট। বেশ কিছুটা সময় ব্যাটিং অনুশীলন শেষেই বিশ্রাম নেন ম্যাশ।
বোলিং না করে ব্যাট হাতে অনুশীলন করায় প্রশ্ন জেগেছে বটে, তবে কী ব্যাট হাতেই দলে পারফর্ম করবেন ম্যাশ? অনুশীলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে জাকিরের সামনে এমন প্রশ্ন আসলে রহস্যই রেখে যান তিনি। বলেন, ‘সেটা আমাকে প্রশ্ন না করে ভাইকে (মাশরাফী) প্রশ্ন করলেই জানতে পারবেন।’







