এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
২৫ জন পুরুষকে বিয়ে করে লক্ষ লক্ষ টাকার গয়না, নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী লুটের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন অনুরাধা পাসওয়ান নামের এক নারী। ‘লুণ্ঠনকারী কনে’ বা ‘লুণ্ঠনকারী দুলহান’ নামে পরিচিত এই ৩২ বছর বয়সী প্রতারক নারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের নেতৃত্ব দিতেন, যারা বিয়ের ফাঁদ পেতে নিরীহ পুরুষদের সর্বস্বান্ত করত।
এনডিটিভি জানিয়েছে, ভারতের রাজস্থানের সাওয়াই মাধোপুর পুলিশ এক অভিনব পদ্ধতিতে পাসওয়ানকে ধরতে সক্ষম হয়। এক কনস্টেবলকে ‘বর’ হিসেবে সাজিয়ে ফাঁদ পাতানো হয়। আগের ভুক্তভোগী বিষ্ণু শর্মার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়। অবশেষে ভোপালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পাসওয়ান নিজেকে দরিদ্র, অসহায় নারী হিসেবে পরিচয় দিতেন। বলতেন, তার এক বেকার ভাই আছে এবং অর্থের অভাবে তিনি বিয়ে করতে পারছেন না। তার দলের লোকজন বিভিন্ন শহরে গিয়ে ম্যাচমেকারের ছদ্মবেশে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যেতেন। প্রতিটি ‘বিয়ে’র জন্য পরিবারগুলোর কাছ থেকে প্রায় ২ লক্ষ টাকা নেয়া হতো।
বিয়ের পরপরই তিনি পুত্রবধূ হিসেবে পারিবারিক জীবনে মিশে যেতেন, সবার সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। কয়েকদিন পর, সুযোগ বুঝে খাবারে নেশার ওষুধ মিশিয়ে সবাইকে অচেতন করে গয়না, নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে চম্পট দিতেন।
গত ২০ এপ্রিল বিষ্ণু শর্মা নামক এক ব্যক্তি পাসওয়ানকে বিয়ে করেন। মধ্যপ্রদেশ থেকে আসা ওই নারীকে তিনি রাজস্থানে তার বাড়িতে নিয়ে আসেন। বিয়ের জন্য তিনি ঋণ নিয়ে ২ লক্ষ টাকা দালাল পাপ্পু মীনাকে দেন। দু’সপ্তাহের মধ্যেই পাসওয়ান ১.২৫ লক্ষ টাকার গয়না, ৩০,০০০ টাকা নগদ এবং একটি দামী মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যান।
বিষ্ণু বলেন, আমি ধার করে বিয়ে করেছিলাম। এমনকি মোবাইলটাও ধার করা ছিল। সে সেটাও নিয়ে গেল। আমি ভাবতেই পারিনি যে ও প্রতারণা করবে। তিনি আরও জানান, সেদিন তিনি রাতে অস্বাভাবিকভাবে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন, সম্ভবত খাবারে কিছু মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
পুলিশ জানায়, তদন্তে পাওয়া নথি ও চুক্তি সবই জাল বলে প্রমাণিত হয়েছে। এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আমরা ভুয়া বিয়ে করে তাকে ফাঁদে ফেলি। এরপর ভোপাল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ চক্রের অন্যান্য সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।







