সৌদি আরবের পর গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে ভীষণরকম বাজিমাত করেছে জাপান। গতকাল ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি জার্মানিকে হারিয়েছে ২-১ গোলের ব্যবধানে। প্রথমে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়লেও দাপটের সাথে খেলে তারা এই অঘটনের জন্ম দেয়।
শুধু হারানোই নয়, এই জয়ের মধ্যে দিয়ে কণ্টকময় পথের বিপরীতে জাপানের দ্বিতীয় পর্বে যাওয়ার সুন্দর শোভিত পথও রচিত হয়েছে। জাপানি কোচ হাজিমে মরিয়াসু অবশ্যই এখন আশায় বুক বাঁধতেই পারেন- আরও একটি নতুন দিনের জন্য।
সৌদি আরবের পর জাপানের আকস্মিক আচমকা চমকে সত্যিই বিশ্বকাপ ফুটবলে যেন নতুন এক রঙের ছোঁয়া পাওয়া যাচ্ছে। এই রঙ কী আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে? ব্রাজিল-সার্বিয়া আর উরুগুয়ে-সাউথ কোরিয়ার লড়াই নিয়ে এমন আলাপ ছিল সাবেক তারকা ফুটবলার, দেশের অন্যতম ফুটবল কোচ শফিকুল ইসলাম মানিকের সাথে।
শফিকুল ইসলাম মানিক বললেন, ‘আজতো ১-এর সাথে ২১-এর লড়াই। ফিফার পাটিগণিতে ব্যবধান তাই অনেক। কিন্তু বাস্তবে অনেককিছু ঘটে যাচ্ছে। আজ ব্রাজিল-সার্বিয়া’র মধ্যেকার লড়াই হবে লুসেইল স্টেডিয়ামে। এ মাঠেই পরাজিত হয়েছে আর্জেন্টিনা। ব্রাজিল-সার্বিয়া’র লড়াই নিয়ে তাই সবাই উন্মুখ, ঢের উৎসাহী।’
আর্জেন্টিনা আর জার্মানির পরাজয়ের পর এ ম্যাচ ঘিরে রাজ্যের কৌতূহলও তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের শোরগোলে তা বোঝা যায়। তবে নিশ্চিত করেই বলতে পারি আর্জেন্টিনা আর জার্মানির অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের পর ব্রাজিল সতর্ক অবস্থানে চলে গেছে।
অন্যদিকে আবার সার্বিয়া লড়াকু সৌদি আরব ও জাপান থেকে অনুপ্রাণিতও হয়েছে। এমন এক সমীকরণে এই ম্যাচটি ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেয়া যাবে না। মধ্যরাতে শুরু হবে এই ম্যাচ। ব্রাজিল আসলেই ভীষণ সতর্ক হয়ে খেলবে। আর সার্বিয়া চাইবে সৌদি আরব ও জাপানের মতো অঘটন ঘটাতে।
সার্বিয়ার কোচ দ্রাগান স্টাজোভিচ বলেছেন, ‘৫ বার বিশ্বকাপ ফুটবল চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ট্যালেন্ট সব ফুটবলে ঠাসা। ব্রাজিল বরাবরই বিশ্বসেরা দল। কিন্তু বিপরীতে সার্বিয়াও আগের তুলনায় অভিজ্ঞ ও পরিপক্ব। সার্বিয়া তার নিজস্ব খেলাটাই খেলবে। জয় আর পরাজয় যেখানে আছে সেখানে সার্বিয়াও জয়ের জন্য খেলবে। দেশকে গৌরবান্বিত করার সুযোগও এটা। সুতরাং সার্বিয়া লড়াইটা চালিয়ে যাবে।’
শফিকুল ইসলাম মানিক সার্বিয়ার কোচ দ্রাগান স্টাজোভিচ-এর এই বক্তব্যকে মান্য করে বলেন, ‘ব্রাজিল নিঃসন্দেহে তারকাসমৃদ্ধ একটি পরিপূর্ণ দল। থিয়াগো সিলভা থেকে শুরু করে দলে আছে কাসেমিরো, ভিনিসিয়াস জুনিয়র, গ্যাব্রিয়েল জেসাস, রিচার্লিসন। দলটি বরাবরই ছন্দময় খেলা খেলে। কিন্তু বিশ্বকাপে যে অঘটনগুলো হচ্ছে সেটাকে বিবেচনায় রাখতে হবে। সার্বিয়া দলের আত্মবিশ্বাসকে কোনোভাবেই উড়িয়ে দেওয়ার নয়।’

শফিকুল ইসলাম মানিকের মতে, সার্বিয়া দলে অনেক ভালো মানের খেলোয়াড় রয়েছে। যারা নিয়মিত ইতালি, ইংলিশ লিগে খেলে। এসব ফুটবলার যথেষ্ট সামর্থ্যবান। ফলে সার্বিয়া ব্রাজিলের সাথে টাফ ফাইটে থাকে। কিন্তু মনে রাখতে হবে ব্রাজিল যখন আক্রমণে আক্রমণে প্রতিপক্ষকে দিশেহারা করে তোলে, তখন অনেকেরই কিছু করার থাকে না। আর ফুটবল নক্ষত্র নেইমার তো রয়েছেই।
ব্রাজিল সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয়লাভ করে ২০০২ সালে। ফলে চ্যাম্পিয়নের জন্য তারা মুখিয়ে আছে। স্বভাবতই ‘হেক্সা’ অভিযান নিয়ে কোচ টিটের বড় পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই গ্রুপের (গ্রুপ জি) লড়াই নিয়ে আগাম অনুমান উল্টেপাল্টে যাবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে সন্ধ্যা ৭টায় ‘গ্রুপ’ এইচ থেকে উরুগুয়ে এবং সাউথ কোরিয়া একে অপরের মুখোমুখি হবে। আর এই একই গ্রুপ থেকে রাত ১০টায় পর্তুগাল খেলবে ঘানার বিপক্ষে। সাউথ কোরিয়া এবং উরুগুয়ের মধ্যেকার ম্যাচ নিয়ে খানিকটা কৌতূহল আছে আমাদের ফুটবল প্রেমিকদের মাঝে। উরুগুয়ের বিপক্ষে সাউথ কোরিয়া সফল হলে সেটা এশিয়ানদের জন্য এক নতুন ইতিহাস তৈরি করবে।
সাউথ কোরিয়ার পর্তুগীজ কোচ পাওলো জর্জ গোমেজ বেন্তো একেবারেই নির্ভার। বলেছেন, ফুটবলারদের উপর কোনো বাড়তি চাপ ও চাহিদা তার নেই। স্বাভাবিক খেলাটাই কাম্য।
সেই প্রসঙ্গ তুলতেই শফিকুল ইসলাম মানিক বললেন, ‘এটিও একটা কৌশল। খেলোয়াড়দের উপর কোনো চাপ দিচ্ছেন না কোচ। কিন্তু ফলাফল পাওয়ার প্রত্যাশা আছে।’
মানিক আরও বললেন, ‘উরুগুয়ে অনেক অভিজ্ঞ দল। দলে কাভানি, গডিন, সুয়ারেজ-এর মতো ক্লাস প্লেয়ার রয়েছেন। এরা বয়সী হলেও অনেক ঘটনার সাক্ষী। রোমাঞ্চকর ও মোহনীয় খেলা উপহার দিতে এরা অভ্যস্ত। বিপরীতে সাউথ কোরিয়াও মজবুত। সৌদি আরবের চেয়েও বেটার দল সাউথ কোরিয়া। সর্বক্ষণ লড়াই করতে জানে। সাউথ কোরিয়া চাইবে ম্যাচের ফলাফল সমান রাখতে।’
প্রি-ম্যাচ প্রেসকনফারেন্সে সাউথ কোরিয়া দলের কোচ বেন্তো নিজেদেরকে বলেছেন ‘আন্ডারডগ’। তাইতে যার হারানোর কিছু নেই, সে কিছু পেলে বিশ্বকাপ আরও অনেক রঙিন হবে। ফুটবল দর্শকেরা সৌদি আরব, জাপানের পর সাউথ কোরিয়ার রঙ না হয় আরও খানিকটা উপভোগ করুক।








