মাত্র ২৭ বছর বয়সেই চলে গেলেন মালায়ালাম ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি অভিনেতা হরি মুরালি। লাল জোসের ‘রসিকন’ ছবিতে সেই মিষ্টি সংলাপ আর দুষ্টুমি ভরা অভিনয় আজও দর্শকদের চোখে ভাসে। কিন্তু বাস্তবের পর্দা নামল বড় অকালে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে পৈয়ানুরের বাড়িতে তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এটি একটি আত্মহত্যার ঘটনা।
থিয়েটার শিল্পী কে এ মুরালি এবং প্রসন্নার পুত্র হরির রক্তেই ছিল অভিনয়। ছোটবেলায় টিভি সিরিয়াল দিয়ে কাজ শুরু করলেও পরিচালক লাল জোসের ‘রসিকন’ ছবির হাত ধরে বড় পর্দায় তার অভিষেক ঘটে। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। মামুট্টির ‘অন্নন থাম্পি’, ‘পট্টনাথিল ভূতম’, মোহনলালের ‘মাদাম্বি’, ‘ডন’, ‘টু হরিহর নগর’-এর মতো প্রায় ৫০টি ছবিতে তিনি শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন।
বড় হওয়ার পর হরি অভিনয় জগত থেকে কিছুটা দূরত্ব তৈরি করেছিলেন। তবে তিনি সিনেমা জগত ছাড়েননি। পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন ভিএফএক্স (VFX) এডিটিংকে। একজন দক্ষ ভিএফএক্স আর্টিস্ট হিসেবে তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করছিলেন। বেঙ্গালুরু থেকে ভিজ্যুয়াল এফেক্টস এবং অ্যানিমেশনের ওপর বিএসসি করার পর তিনি এর্নাকুলামের একটি নামী সংস্থায় ভিএফএক্স আর্টিস্ট হিসেবে কাজ শুরু করেন। মালায়ালাম সিনেমার অনেক প্রজেক্টেই তার সৃজনশীল ছোঁয়া ছিল।
খুব অল্প বয়স থেকেই ক্যামেরার সামনে দাপিয়ে অভিনয় করেছেন হরি। পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, হরির বাবা কে এ মুরালি মালায়লাম থিয়েটারের এক পরিচিত মুখ। হরির কাকা বাবু আন্নুরও ইন্ডাস্ট্রির এক দক্ষ অভিনেতা (যাকে ‘ওরু ইন্ডিয়ান প্রণয় কথা’ ছবিতে ফাহাদ ফাসিলের বাবার চরিত্রে দেখা গিয়েছিল)। এমন একটি শিল্পী পরিবার থেকে আসা এক প্রতিভাবান যুবকের এভাবে চলে যাওয়া কেউ মেনে নিতে পারছেন না।
পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কী এমন অভিমান বা অবসাদ গ্রাস করেছিল হরিমুরালিকে, যার জন্য তাকে আত্মহত্যার মতো চরম পথ বেছে নিতে হল সেই উত্তরই এখন খুঁজছে পরিবার ও অনুরাগীরা।


