প্রতিবছর যখনই চলচ্চিত্রে সরকারি অনুদান দেয়া হয়, তখনই শুরু হয় সমালোচনা! এবারও ২০টি স্বল্পদৈর্ঘ্যে ৪ কোটি টাকা এবং ১২টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়। এরপর থেকে শুধু হয়েছে সমালোচনা। পরিচালকদের পাশাপাশি নায়ক নিরবও অনুদানের সিনেমা নিয়ে ক্ষোভ ঝেড়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন।
চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন, এবারও মূলধারার সিনেমা উপেক্ষিত থেকে গেল। নিরব বলেন, “বিগত সময়ের মতোই এবারের অনুদান প্রক্রিয়াতেও মূলধারার সিনেমাকে উপেক্ষা করা হয়েছে। মূলধারার সিনেমায় যদি অনুদান দেয়া হয় তাহলে ম্যাস পিপল সেইসব সিনেমাগুলো দেখতে পারে। কিন্তু বিকল্প ধারার সিনেমাতে অনুদান দেয়ার ফলে এই সিনেমাগুলো ঠিকঠাক মুক্তিই পায় না।”
নিজের মতামত জানিয়ে নিরব বলেন, “বিকল্প ধারার সিনেমাগুলোর টার্গেট থাকে দেশ-বিদেশ থেকে পুরস্কার। জনগণের টাকায় নির্মিত সিনেমা যদি তারাই দেখতে না পারে তাহলে এর মূল্য থাকলো কই? এগুলো শুধু আমার একার কথা নয়, গতকাল থেকে দেখছি সিনেমা সংশ্লিষ্ট অনেকে এ বিষয়ে ফেসবুকে লেখালিখি করছেন। যাদের অনুদান দেয়া হয় বিগত ১৫ বছর খুঁজে দেখলে অনুদানের সিনেমাগুলোর ঠিকঠাক হদিস নাই। আমার কথা হচ্ছে, অনুদান দেয়ার পর একমাস পরপর খবর নেয়া উচিত। তদারকি করা উচিত। আরেকটা বিষয়, এই সিনেমাগুলোর মুক্তির ক্ষেত্রে বড় পরিসরে মুক্তি যেন পায় সেদিকও খেয়াল করা উচিত।”
নিরব নিজেও দুটি অনুদানের সিনেমার অভিনয় করেছেন। একটি নায়িকা রোজিনা পরিচালিত ‘ফিরে দেখা’, অন্যটি বন্ধন বিশ্বাস পরিচালিত ‘ছায়াবৃক্ষ’। একটি মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট এবং অন্যটি চা বাগানের শ্রমিকদের জীবনযাত্রাকে উপজীব্য করে নির্মিত। দুটি ছবিই মুক্তি পেয়েছে।
নিরব বলেন, আমিও অনুদানের সিনেমায় কাজ করেছি। অভিজ্ঞতা যে অনেক বেশি ভালো সেটা বলবো না। যারা অনুদান কমিটিতে থাকেন সেখানে বিকল্পধারার সিনেমা মানুষরা বেশি থাকেন। আমি বলতে চাই, শুধু বিকল্প ধারা নয়, ওই কমিটিতে মূলধারার অভিজ্ঞদের রাখা উচিত।
চলচ্চিত্র পরিচালক ও পরিবেশক অনন্য মামুন তার ফেসবুকে লিখেছেন, “শিল্প রক্ষার জন্য যদি শিল্পকলায় অডিটোরিয়াম থাকতে পারে, তাহলে চলচ্চিত্র রক্ষার জন্য প্রত্যেকটি জেলায় সরকারি সিনেমা হল নেই কেন? গত ১০ বছরে চলচ্চিত্রের যত টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে, তাতে আদৌ চলচ্চিত্রের কোন লাভ হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। উল্টো অনুদানের চলচ্চিত্রগুলোকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দেওয়া হয়। যেখানে আসল প্রযোজকরা বঞ্চিত হয়। গত ১০ বছরের অনুদানের টাকা দিয়ে যদি সিনেমা হল বানানো হতো, তাহলে চলচ্চিত্রের অনেক উপকার হতো।”
নিরব অভিনীত ‘শিরোনাম’ ছবিটি নির্মাণাধীন। এই নায়ক জানান, এ মাসে তিনি কানাডা থেকে ফিরে শেষ লটের শুটিং করবেন। পরে নতুন আরেক ছবি ‘গোলাপ’র শুটিং শুরু করবেন, যেখানে তার বিপরীতে প্রথমবারের মতো অভিনয় করবেন চিত্রনায়িকা পরীমনি।
বাংলাদেশে সরকারি চলচ্চিত্র অনুদান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের একটি অনুদান প্রকল্প। প্রতি অর্থবছরে চলচ্চিত্র শিল্পে মেধা ও সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ১৯৭৬ সাল থেকে সিনেমা নির্মাণের জন্য সরকারি অনুদান দেওয়া হয়ে থাকে। মাঝে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে বন্ধ থাকলেও ২০০৭-০৮ অর্থবছর থেকে আবারও তা নিয়মিত হয়েছে। প্রথম অনুদান প্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’।








