শীতের মৌসুমের শুরুতেই মাগুরায় বেড়েছে শিশুদের ঠাণ্ডাজনিত অসুখ নিউমনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রকোপ। মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে শয্যার সংখ্যা মাত্র ২০টি, কিন্তু প্রতিদিন এই দুটি অসুখে আক্রান্ত হয়ে গড়ে ২০ থেকে ২৫ শিশু রোগী ওয়ার্ডে আসছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত ১১৬ শিশু রোগী শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে। ফলে নির্ধারিত শয্যায় জায়গা না হওয়ায় অনেক শিশুকেই আশ্রয় নিতে হচ্ছে মেঝে ও বারান্দায়।
মাগুরা ২৫০ সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়- ঠাণ্ডা, ডায়রিয়া, নিউমনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেক শিশু গাদাগাদি করে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে। এমনকি এক বেডে দুইজন শুয়ে চিকিৎসা নিতে দেখা যায়।
দোড়ামতনা গ্রাম থেকে ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু সন্তানকে নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা ফাতেমা বেগম নামের এক নারী বলেন, হাসপাতালে ভর্তির চারদিন হলো। ডাক্তার এসে চিকিৎসা দিচ্ছেন। তবে সব ধরনের ওষুধ বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। এতে আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যদি কিছু ওষুধের ব্যবস্থা করে দেয় আমাদের উপকার হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, নামে ২৫০ শয্যা হাসপাতাল হলেও সেটা এখনো খাতা-কলমে রয়েছে। শিশু ওয়ার্ডে শিশু রোগীর জন্য ডাক্তার রয়েছে তিন জন। ১ নভেম্বর থেকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত শিশু ওয়ার্ডে ঠাণ্ডা ও ডায়ারিয়া আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের শিশু বিষয়ক ডাক্তার তানভির রহমান বলেন, এখন শীতের শুরুতে শিশুদের ঠাণ্ডাজনিত রোগ বেশি দেখা দিচ্ছে। তবে সারা বছর কম বেশি এই দেখা যায়। এই শীতের শুরুতে কুয়াশা যখন পড়ে অনেক সময় শিশুর মা সচেতন থাকেন না, যে কারণে শিশু ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়। এ সময় ধুলা বেশি হয়। যার ফলে দ্রুত জীবাণু এক বাচ্চা থেকে আরেক বাচ্চার মধ্যে সংক্রমিত হয়।
অপরদিকে শীতের শুরুতে বিভিন্ন জলাশয়ে পানির স্রোত কমে যায়। যার ফলে জীবাণুর ধরন পাল্টে যায়। এ কারণে শীতের শুরুতে ডায়রিয়াজনিত রোগীর সংখা বেশি পাওয়া যায়। লবন পানি স্যালাইন দিয়ে নাখ পরিস্কার করা। খুব শ্বাসকষ্ট হলে নেবুলাইড করা যেতে পারে। ডায়ারিয়ার ক্ষেত্রে বাচ্চাকে খাবার স্যালাইন খাওয়ান এবং পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা মেনে চললে শিশুর ঠাণ্ডাজনিত রোগের হাত থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব।







