গত বছরের ইসলামিক সলিডারিটি গেমসের আগে ডোপ টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল এসএ গেমসে দুবারের স্বর্ণপদকজয়ী মাবিয়া আক্তারের। সেই টেস্টে পজিটিভ হয়ে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ এখন এ তারকা ভারোত্তোলক। সাউথ এশিয়া রিজিওনাল অ্যান্টি ডোপিং অর্গানাইজেশনের রেজাল্ট ম্যানেজমেন্ট কমিটি তাকে নিষিদ্ধ করেছে।
এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে কথা বলেছেন মাবিয়া আক্তার। চ্যানেল আই অনলাইনকে জানিয়েছেন, ‘আমার পায়ের চিকিৎসার জন্য যে ঔষধটি খাচ্ছিলাম, তার জন্যই আমার ডোপ টেস্টে পজিটিভ এসেছে। অন্যকোন ড্রাগ বা নিয়ম বহির্ভূত কোনকিছুই না। সেটা লেখা আছে কোন পদার্থের জন্য আমি নিষিদ্ধ হয়েছি।’
‘তবে আমার যেটা ধরা পড়ছে সেটা ভারোত্তোলনের জন্য খাওয়া নিষেধ। অতিরিক্ত পানি কমানোর জন্য ওই ঔষধ খাওয়া নিষেধ। এটা ব্যক্তিগতভাবে জানতাম না। আমাদের ক্যাম্প চলাকালীন যে ডাক্তাররা যান, তারা কোনদিন ফিল্ডে এসে আমাদের পরীক্ষা করেন না, তারা আমাদের মেডিকেল ব্যাকগ্রাউন্ডও জানেন না। আমার ওষুধের পুরো এক বছরের প্রেসক্রিপশন আমার কাছে আছে।’
নিজের চিকিৎসার ব্যাপারে মাবিয়া আক্তার জানালেন, ‘গতবছর থেকে চিকিৎসার উপর আছি। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি বা তারও আগে থেকে আমার হাঁটুতে ব্যথা ছিল। ব্যথা থেকে আস্তে আস্তে আমার হাঁটুর পরিবর্তন লক্ষ্য করছিলাম। তারপর ডাক্তারের কাছে যাই। তারপর আমার হাঁটুর পেছনের দিকে পানি জমে যায়। তার জন্য আমার ডাক্তার কিছু ঔষধ দেয়। ঔষধ খাওয়াকালীন সময়ে নমুনা পরীক্ষার জন্য দেই ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের ভবনে। নমুনা দেয়ার সময় আমার চিকিৎসা চলছিল। সেই সময় ডাক্তারকে জানিয়েছিলাম, তার প্রেসক্রিপশনও আমার কাছে আছে।’
‘স্যাম্পল দেয়ার পর সলিডারিটি গেমস খেললাম, সেখান থেকে চলে আসলাম। ১৫ জানুয়ারি আমার নমুনার রিপোর্ট পাঠানো হয় যেখানে ডায়োটিকস নামের একটি পদার্থ পাওয়া যায়। ডায়োটিকস একটি ঔষধের ‘র’ প্রোডাক্ট বা মূল উপাদান। আমি যে ঔষধ খেয়েছি তার জন্যই এ নমুন আসছে। তখন পুরো প্রেসক্রিপশন দেখে ডাক্তারকে জানাই, তিনি আমার কাগজপত্র দেখাতে বলেন। জমা দেয়ার পর গত বৃহস্পতিবার আমাকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে।’
ভারোত্তোলকদের নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে স্বর্ণজয়ী আরও বলেন, ‘প্রতিবার কোন খেলায় যাওয়ার ১০-১২ দিন আগে বিওএ একটি সেমিনার করে এবং তার দুই-তিনদিন পর নমুনা সংগ্রহ করে। ভারোত্তোলনের জন্য কোনটি খাওয়া যাবে, কোনটি খাওয়া যাবে না এমন কোন সেমিনার আমাদের কখনোই হয়নি।’
১৪ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। এ ব্যাপারে মাবিয়া জানালেন, ‘আপিলের জন্য অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সাথে আমার বসতে হবে। আপিলের ধারা কোন বিষয়ে, কোন প্রসেসে করতে হবে তার কিছুই জানি না। জানার পর আমার শাস্তির বিষয়ে যদি কোন সমস্যা হয় তাহলে ওই প্রক্রিয়ায় আমি যাব না। আরেকটি ব্যাপার আছে, মেডিকেল কমিটি যারা আমাকে অবগত করেছে তাদের কাছে একটা আপিল করা আমাকে মাফ করার জন্য। এই একটি প্রক্রিয়া আমার জন্য খোলা আছে। অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সাথে আমার আলোচনার আগে কিছুই বলতে পারছি না।’






