লামিন ইয়ামাল খুব অল্প সময় নাম লিখিয়ে ফেলেছেন সেরাদের তালিকায়। ১৮ বর্ষী এ স্প্যানিয়ার্ড ইতিমধ্যে জিতেছেন ক্লাবের হয়ে লিগ শিরোপা এবং দেশের হয়ে ইউরো। কম বয়সে এত অর্জনের মধ্যেও আছে বেদনাময় কিছু। জানালেন তার জীবনে সবচেয়ে বেদনাময় স্মৃতির কথা, তার বাবাকে ছুরি আঘাত করেছিল দুর্বৃত্তরা, তাকে রাখা হয়েছিল ঘরবন্ধি করে।
স্পানিশ সাংবাদিক হোসে রামন দে লা মোরেনার সাথে এক সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ করেছেন ইয়ামাল। তার মধ্যে অন্যতম ছিল তার জীবনে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে ভবয়াবহ ঘটনা, বাবা মুনির নাসরাউইর উপরে হামলা।
ইয়ামালের বয়স যখন ১৬ বছর ছিল তখন তিনি তার চাচাতো ভাইয়ের সাথে ছিলেন। ঘটনার বিষয় জানতে পারার পর, তিনি তার বাবার কাছে ফিরে যে চাইলে তাকে ঘরবন্ধি করে রাখা হয় এবং সেখানে যেতে দেয়া হয় না। তিনি তৎক্ষণাৎ ট্রেনে উঠে তার বাবার কাছে আসতে চেয়েছিলেন।
সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমি আমার চাচাতো ভাই মোহার সাথে গাড়িতে ছিলাম। আমার ফোনটি স্পিকারে ছিল। আমার আরেক চাচাতো ভাই, যিনি মরক্কোতে ছিলেন, আমাকে ফোন করেছিলেন। আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিল আমি একা নাকি। এবং সে আমাকে এটি সম্পর্কে বলতে শুরু করে। সেই সময়, আমি ছিলাম ১৬ বছর বয়সী একটি বালক। আমি প্রথমে গাড়ি থেকে নেমে মাতারোতে ট্রেন স্টেশনে যাওয়ার চেষ্টা করি। কল্পনা করুন, আপনি একজন শিশু এবং শুনছেন বাবাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। আমি ট্রেনে উঠতে চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমার চাচাতো ভাই আমাকে অনুমতি দেয়নি। আমি তাকে বলেছিলাম আমাকে মাতারোতে নিয়ে যেতে, নইলে আমি আর কখনও তার সাথে কথা বলব না। কিন্তু তারা আমাকে অনুমতি দেয়নি। তারা আমাকে ঘরে আটকে রাখে, এবং আমি বেরিয়ে আসার চেষ্টা করি।’
‘এটা একটা কঠিন সময় ছিল, এবং পরের দিন আমার অনুশীলন ছিল। তারপর আমার বাবা ফোন করে আমাকে বললেন যে সে ভালো আছে এবং শান্ত থাকতে। পরের দিন আমি তাকে হাসপাতালে দেখতে যাই। সবকিছু শান্ত হয়ে যায় তখন। আমি আমার বাবা এবং দাদীকে তাদের বাড়িতে বিশ্রাম নিতে দেখছি।’
হামলার সাথে জড়িত চার সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে সময় মুনিরকে দুবার ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল। তিনি গুরুতর অবস্থায় আহত হয়েছিলেন। ঘটনাটি মাতারোতে ঘটেছিল, যেখানে লামিলের বাবা থাকেন। ঘটনাস্থলে তর্ক-বিতর্কের জের ধরে ইয়ামালের বাবার গায়ে আঘাত করা হয়। ছুরিকাঘাতের তিন দিন পর ইয়ামালের বাবাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হয় এবং এ ঘটনার কয়েকদিন পরে ইয়ামাল বার্সেলোনার হয়ে খেলা শুরু করেন।








